Amit Shah: 'দেশ কোনও ধর্মশলা নয়', ২০৪৭-এর উন্নত ভারত গড়তে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই ভিত্তি, বললেন শাহ

অমিত শাহের বক্তব্য, একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সরাসরি তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

Published on: Aug 26, 2026, 11:17:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Amit Shah: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগামী দুই দশকের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে এই বার্তাই দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নয়াদিল্লিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং নতুন ধরনের নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ANI Video Grab)
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ANI Video Grab)

অমিত শাহের বক্তব্য, একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সরাসরি তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় কোনও নিরাপত্তা সমস্যা বড় আকার নেওয়ার পর তার মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে এই পদ্ধতি বদলাতে হবে। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, নকশালবাদ বা উত্তর-পূর্বের অশান্তির মতো সমস্যাগুলি যদি অনেক আগে থেকেই শনাক্ত করা যেত এবং সেগুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হতো, তাহলে দেশের সামনে দীর্ঘদিন ধরে এত বড় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতো না।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তিনটি বড় ‘হটস্পট’-এর হুমকি সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন অমিত শাহ। এই সাফল্যের জন্য তিনি রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নিরন্তর নজরদারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা এখন থেকেই চিহ্নিত করার জন্য গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তি, বদলে যাওয়া অপরাধের ধরন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্ত সংক্রান্ত পরিবর্তনের কারণে আগামী দিনে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও বদলাবে।

জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করা নয় বলেও উল্লেখ করেন শাহ। বরং ভবিষ্যতে কোন কোন সমস্যা বড় আকার নিতে পারে, তার আগাম পূর্বাভাস তৈরি করে সেগুলি মোকাবিলার জন্য পরিকল্পনা নেওয়াই এই ধরনের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। অর্থাৎ কোনও হুমকি বড় সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই তাকে চিহ্নিত করে প্রতিরোধের কৌশল তৈরি করতে হবে।

অমিত শাহের এই বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনীতি, সমাজ এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার যোগও স্পষ্ট হয়েছে। দেশের উন্নয়ন যত দ্রুত হবে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। সাইবার অপরাধ, মাদক চক্র, সন্ত্রাসবাদ, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের পাশাপাশি ভবিষ্যতের অজানা হুমকির জন্যও প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলন থেকে অমিত শাহের বার্তা স্পষ্ট—শুধু বর্তমানের সঙ্কট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের হুমকি আগেভাগে বুঝে প্রস্তুতি নিতে হবে। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের লক্ষ্য পূরণের পথে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই তিনি অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More