E20 Petrol: ‘ভুল ব্যাখ্যা!’ E20 পেট্রলে গাড়ির ইঞ্জিনে ক্ষতি? বিস্ফোরক দাবি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর

E20 Petrol: বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চর্চায় থাকা ই২০ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল কর্মসূচি সংক্রান্ত দাবি-দাওয়া গুলিকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। 

Published on: Jul 8, 2026, 13:14:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

E20 Petro: বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ব্যপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে ই২০ পেট্রল। বেশ কিছু ভিডিও এবং পোস্টে দাবী করা হয়েছে এই জ্বালানি ব্যবহার করার পর থেকে নাকি অনেকেরই পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। আবার কোথাও এমনও জল্পনা চলছে যেখানে বলা হচ্ছে, আগামী দিনে নাকি গাড়িতে ইথানল মিশ্রণের মাত্রা ২০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে সরকার। এই বিতর্কের মাঝেই অবশেষে এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (PIB Photo Gallery )
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (PIB Photo Gallery )

বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চর্চায় থাকা ই২০ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল কর্মসূচি সংক্রান্ত দাবি-দাওয়া গুলিকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। এ প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখা, উপযুক্ত যানবাহনে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হলে তা ইঞ্জিনের ক্ষতি করে এমন কোনও প্রমাণ নেই । একই সঙ্গে তিনি জানান, গাড়ি নির্মাতা ও যানবাহন পরিষেবা প্রদানকারীরাও ই২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে কোনও সমস্যার কথা জানাননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চিত ই২০ পেট্রল প্রসঙ্গে বার্তা সংবাদ এএনআই-কে হরদীপ সিং পুরী জানান, এই ই২০ নিয়ে যে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে তার কোনও উপযুক্ত প্রমাণ নেই। বরং তা পুরোটাই ভুল তথ্যে ভরা ভিত্তিহীন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাফ কথা, ‘রাস্তায় ২০ কোটি দুই চাকার এবং ২০ লক্ষ চার চাকার যানবাহন চলে আর তারা প্রত্যেকেই এই জ্বালানি ব্যবহার করে। তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা গাড়ি প্রস্তুতকারক এবং যারা এই যানবাহনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তারা সবাই তো বলছেন এতে কোনো অসুবিধা নেই। তাহলে হঠাৎ এত কৌতূহল কীসের?’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি ভুল ব্যাখ্যা এবং আমি এর চেয়ে কড়া ভাষা ব্যবহার করতে চাই না।’ হরদীপ পুরী জানান, ভারতে ই২০ নতুন কোনও জ্বালানি নয়। তাঁর কথায়, ‘গত সাড়ে তিন বছর ধরে দেশে ই১৫ ব্যবহার হচ্ছে। আর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ই২০ চালু হয়েছে। অর্থাৎ ই২০ ব্যবহারের এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এখন যদি কেউ মনে করেন খুব তাড়াতাড়ি ই২৫ চালু হতে চলেছে, তাহলে সেটা ঠিক নয়। আমরা এখনও পরীক্ষা চালাচ্ছি। সেই পরীক্ষাগুলি শেষ হতে সময় লাগবে।’ ই২৫ নিয়ে কেন্দ্র কী ভাবছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, ‘পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর আমরা তা মূল্যায়ন করব। তার পরে সব অংশীদার এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হবে। আমি গাড়িও তৈরি করি না, জ্বালানিও তৈরি করি না। গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিই ই২০ জ্বালানি নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে। প্রত্যেকেই এ বিষয়ে নিজেদের মত জানিয়েছে।’ ই৮৫ জ্বালানির প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, ‘ই৮৫ চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। নতুন পেট্রল পাম্প-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।’

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি ই২০ ​​পেট্রোলের কারণে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে—এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির পক্ষে যুক্তি দিয়ে গড়করি বলেন যে, ব্রাজিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো বহু বছর ধরে ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করছে এবং সেখানে গাড়ির কোনও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি। ইথানলের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে—যারা এমন দাবি করছেন, তাদের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান যে, এই তথাকথিত 'সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা' কোথা থেকে এসব তথ্য পাচ্ছেন। সারা দেশে ই২০ পেট্রল চালু হওয়ার পর অনেক গাড়ির মালিক—বিশেষ করে পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে—জ্বালানি সাশ্রয়ের হার ও ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে অনলাইনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; ঠিক সেই সময়েই মন্ত্রীর এই মন্তব্য এল।