Marco Rubio: 'ভারতের স্বার্থের বিনিময়ে...,' পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে মার্কিন নীতির ব্যাখ্যা রুবিও-র
Marco Rubio: প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের সময়কার দক্ষিণ এশিয়া নীতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানার বিরোধিতা করেছেন মার্কো রুবিও।
Marco Rubio: পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে একটু হলেও উদ্বেগে ভারত। আর সেই উদ্বেগের মধ্যে নয়াদিল্লিকে আশ্বস্ত করলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিশ্বের কোনও দেশের সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিনিময়ে হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের, বিশেষ করে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আর সেই ঘনিষ্ঠতা নিয়েই ভারতের কূটনৈতিক মহলে একটা উদ্বেগ রয়েছে। আর এই প্রসঙ্গে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, ‘শুধু পাকিস্তানের সঙ্গেই নয়, বিশ্বের অন্য যে কোনও দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক থাকুক না কেন, তা কোনওভাবেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মূল্যে বা ক্ষতির বিনিময়ে হবে না... ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আমার এই সফর, বাণিজ্য চুক্তি করার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি, আমাদের যৌথ কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং একসঙ্গে করা যাবতীয় কাজই এর বড় প্রমাণ।’
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের সময়কার দক্ষিণ এশিয়া নীতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানার বিরোধিতা করেছেন মার্কো রুবিও। তাঁর বক্তব্য, সত্তরের দশকের নিক্সন-কিসিঞ্জার আমলের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনা করা ঠিক হবে না, কারণ তখন থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রিচার্ড নিক্সনের প্রেসিডেন্সির সময় এবং হেনরি কিসিঞ্জার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকে পড়েছিল। রুবিও বলেন, ‘আমি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭০-এর দশককে টানব না, কারণ বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সেই সময়ের কোনও মিল নেই। সে সময় আমাদের কোল্ড ওয়ার-সহ নানা সমীকরণ ছিল, যা এখন আর অস্তিত্বে নেই।’ রুবিও জানান, ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের ফলে এমন একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে—এমন পদক্ষেপগুলোকে ‘নিরুৎসাহিত’ করতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি টিভি১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, মার্কিন বিদেশনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন দেশগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হয়, যাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও সেই নীতি প্রযোজ্য বলে জানান তিনি। রুবিওর কথায়, 'বিদেশ সচিব হিসেবে আমাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি পরিচালনা করতে হয়। সেই কারণে এমন দেশগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে হয়, যাদের সঙ্গে আমাদের কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখতেই হবে। দেশটির হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।' ভারতের প্রসঙ্গ টেনে রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের সরকারকেও সম্পর্ক বজায় রাখতে হয় এবং সে দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্য।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছেন মার্কো রুবিও। তবে এই আশ্বাস বাস্তবে দুই দেশের নীতিগত সিদ্ধান্তে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।
E-Paper

