China on India's UNSC Candidature: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে প্রচার শুরু ভারতের, মুখ খুলল চিন
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ানকে ভারতের প্রার্থী হওয়া নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চিন এ সংক্রান্ত খবর লক্ষ্য করেছে। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, আপাতত এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থানই নিতে চাইছে বেজিং।
China on India's UNSC Candidature: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) ২০২৮-২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের প্রার্থী হচ্ছে ভারত। আর তা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এবার এ বিষয়ে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানাল চিন। বেজিং জানিয়েছে, ভারতের প্রার্থী হওয়া সংক্রান্ত খবর তারা লক্ষ্য করেছে এবং বিষয়টির উপর নজর রাখছে। যদিও ভারতের দাবিদারিকে প্রকাশ্যে সমর্থন বা বিরোধিতা—কোনওটাই করেনি চিন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ানকে ভারতের প্রার্থী হওয়া নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চিন এ সংক্রান্ত খবর লক্ষ্য করেছে। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, আপাতত এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থানই নিতে চাইছে বেজিং। চিনের এই প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের প্রচার অভিযান শুরু করেছেন। গত সোমবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভারতের প্রচারাভিযানের সূচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রসংঘের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির মূল ভিত্তি হল শান্তি, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি, পারস্পরিক আস্থা এবং সততার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের মতো বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে ভারত।
যদিও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ দেশের অন্যতম চিন, তবুও তারা এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেনি। অন্যদিকে, ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন বাকি চার স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স—নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পর ভারতকে স্থায়ী সদস্য করার দাবিতে বহুবার সমর্থন জানিয়েছে।
২০২৮-২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচন আগামী বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ একমাত্র আসনটি নিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাজিকিস্তান। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ভারতের প্রভাব এবং বিস্তৃত সমর্থনের কারণে নয়াদিল্লিকে এই দৌড়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভারত এর আগে আটবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১-২২ সালে এই দায়িত্ব পালন করে নয়াদিল্লি। এর আগে ১৯৫০-৫১, ১৯৬৭-৬৮, ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৭-৭৮, ১৯৮৪-৮৫, ১৯৯১-৯২ এবং ২০১১-১২ সালেও ভারত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। ভারতের বক্তব্য, প্রায় ৮০ বছর আগের আন্তর্জাতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো আজকের বিশ্বের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ জরুরি বলেও মনে করে নয়াদিল্লি।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতনেনি সম্প্রতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদের সীমিত কার্যকারিতার কারণেই রাষ্ট্রসংঘ সম্পর্কে মানুষের আস্থা কিছুটা কমেছে। তাঁর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোয় সংস্কার আনা সময়ের দাবি। এখন নজর আগামী বছরের নির্বাচনের দিকে। পাশাপাশি, ভারতকে নিয়ে চিন শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, সেটিও আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


