UPSC Civil Services Success Story: মিড ডে মিল রান্না করতেন মা, ছেলে UPSC সিভিল সার্ভিসেসে করলেন কামাল, হলেন IAS
UPSC Civil Services Success Story: ডোঙ্গরে রেভাইয়াহর সাফল্যের এই পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। তাঁর শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে। বাবার সামান্য আয়ে সংসার চালানো যেখানে দায় ছিল, সেখানে পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল একপ্রকার বিলাসিতা।
UPSC Civil Services Success Story: ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’- এই চিরন্তন সত্যটিকে আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন এক লড়াকু তরুণ। কোনও বিলাসবহুল জীবন নয়, ছিল না দামি কোচিং সেন্টারে পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য। কিন্তু যা ছিল, তা হল আত্মবিশ্বাস এবং চোখের সামনে মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনির প্রতি পরম শ্রদ্ধা। সমস্ত অভাব-অনটনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছেন মিড ডে মিল কর্মীর ছেলে ডোঙ্গরে রেভাইয়াহ। ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪১০ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে আজ তিনি IAS অফিসার হয়ে গিয়েছেন।

GATE পরীক্ষায় ভালো স্থান অর্জন করেছিলেন
রেভাইয়াহ ছাত্র হিসেবে বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিলেন। সিভিল সার্ভিসে আসার আগে তিনি নিজের টেকনিক্যাল বা কারিগরি মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। দেশের অন্যতম কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘GATE’-এ ভালোভাবে উত্তীর্ণ হন। ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে তাঁর সামনে একটি সুরক্ষিত এবং মোটা মাইনের কর্পোরেট কেরিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু রেভাইয়াহর লক্ষ্য ছিল অন্য কিছু। সাধারণ মানুষের জন্য এবং দেশের জন্য কাজ করার এক অদ্ভুত তাগিদ তিনি অনুভব করতেন নিজের ভিতরে। তাই বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে তিনি বেছে নিলেন ইউপিএসসির মতো অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তৈরি হওয়া নিয়মানুবর্তিতা এবং কঠিন পরিশ্রম করার অভ্যেসকে তিনি ইউপিএসসির মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
দামি কোচিং ছাড়া, সীমিত সম্পদে অসাধ্য সাধন
বর্তমান যুগে যেখানে ইউপিএসসি ক্র্যাক করার জন্য দেশের তরুণ-তরুণীরা দিল্লি বা বড় বড় শহরের কোচিং সেন্টারে অনেক টাকা খরচ করেন, সেখানে রেভাইয়াহ প্রমাণ করে দিলেন যে সাফল্যের জন্য পকেটের জোর নয়, মনের জোর আর সঠিক রণকৌশল প্রয়োজন। আর্থিক অনটনের কারণে তিনি কোনও বড় কোচিংয়ের সাহায্য নিতে পারেননি।
সাফল্যের টিপস IAS অফিসারের
ইন্টারনেটের সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহার, লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো এবং বিগত বছরগুলির টপারদের ইন্টারভিউ ও রণকৌশল বিশ্লেষণ করেই তিনি নিজের পড়াশোনার রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো বিনোদন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখে দিনের পর দিন কঠোর তপস্যা চালিয়ে গিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


