UPSC Civil Services Success Story: লাখ-লাখ টাকার সুযোগ ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি, ৩৪২তম র্যাঙ্ক থেকে সোজা হলেন তৃতীয়
UPSC Civil Services Success Story: UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আকাংশ ধুল। তার আগেও একবার সেই পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করেন। দেশের মধ্যে ৩৪২ তম স্থান অধিকার করেন। সেখান থেকে তৃতীয় হন দেশে।
UPSC Civil Services Success Story: প্রতি বছর ভারতের লাখ-লাখ তরুণ-তরুণী চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে দিন-রাত এক করে দেন। কোনও বিলাসবহুল গাড়ি বা সরকারি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশ বা সমাজের কাজের জন্য তাঁরা বড় সুযোগও ছেড়ে দেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই কঠোর তপস্যার ফল যখন সামনে আসে, তখন তা কেবল একটি পরীক্ষার রেজাল্ট থাকে না, হয়ে ওঠে এক মহাকাব্যিক সাফল্যের রূপকথা। ২০২৫ সালের ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার মেধাতালিকায় দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আকাংশ ধুল। নিজের স্বপ্নের জন্য মানুষ কত বড় সুযোগ অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারেন, তারই প্রমাণ হলেন তিনি।

SRCC-র লাখ টাকার প্লেসমেন্টকে ‘না’: লক্ষ্য ছিল অর্জুন পাখির চোখ
আকাংশের জন্ম হরিয়ানার রোহতকে হলেও পরবর্তীকালে তাঁর পরিবার পঞ্চকুলায় চলে আসে। চণ্ডীগড়ের দুটি ভিন্ন স্কুল থেকে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি দিল্লির কলেজ শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে ভর্তি হন। সেখান থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে বি.কম অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
লাখ-লাখ টাকার চাকরির সুযোগ ছিল
অনেকেই ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে বসাটাই ছিল দস্তুর। তাঁর সামনেও সুযোগ ছিল নামী কর্পোরেট সংস্থায় লাখ-লাখ টাকার প্যাকেজ নিয়ে একটি আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবন বেছে নেওয়ার। কিন্তু আকাংশের চোখে তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল ছোটবেলা থেকে লালন করা সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন। প্লেসমেন্টে না বসে সম্পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিজেকে সঁপে দেন দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসির প্রস্তুতির ময়দানে।
৩৪২ তম র্যাঙ্ক থেকে একলাফে সরাসরি তৃতীয় স্থান
ইউপিএসসির এই দীর্ঘ পথচলা আকাংশের জন্য রাতারাতি আসেনি। এই পরীক্ষা শুধু মেধার নয়, বরং প্রার্থীর ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। আকাংশ ২০২১ সাল থেকে এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি শুরু করেন। এর আগে ২০২৩ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি সফল হয়েছিলেন। সেই বছর তাঁর র্যাঙ্ক ছিল ৩৪২।
সাধারণত এত দীর্ঘ লড়াই এবং ৩৪২ তম র্যাঙ্ক পাওয়ার পর অনেকেই সন্তুষ্ট হয়ে যান বা মানসিক ক্লান্তিতে পড়াশোনা থিতিয়ে পড়ে। কিন্তু আকাংশ সাধারণদের দলে ছিলেন না। তিনি দমে না গিয়ে নিজের রণকৌশলকে আরও ধারালো করে তোলেন এবং দ্বিগুণ উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যান। আর ঠিক এই জেদের ওপর ভর করেই ২০২৫ সালের পরীক্ষায় সরাসরি সর্বভারতীয় স্তরে তৃৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


