US Army Rift Latest Update: হেগসেথের সঙ্গে সংঘাত চরমে! পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনার শীর্ষ কর্তা ড্যান ড্রিসকল

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সংঘাতই পদত্যাগের দিকে নিয়ে গেল বলে খবর।

Published on: Sep 1, 2026, 09:03:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সংঘাতই পদত্যাগের দিকে নিয়ে গেল বলে খবর। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি জানানো এক সূত্র দাবি করেছে, ড্রিসকল হোয়াইট হাউসে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এখনও সেই পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। (AP Photo/Julia Demaree Nikhinson)
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। (AP Photo/Julia Demaree Nikhinson)

ড্রিসকলের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার যুদ্ধ চলছে ইরানের সঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের খবর স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের দাবি, সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিক উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন ড্রিসকল। তাঁর অভিযোগ ছিল, সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের পথে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

ড্রিসকলের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা যায়। এই কারণে হেগসেথের পক্ষে তাঁকে সরানো সহজ ছিল না বলে দাবি এক মার্কিন কর্মকর্তার। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্মি সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব নেন ড্রিসকল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহ ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেন। তুলনামূলক কম খরচে বেশি কার্যকর অস্ত্র দ্রুত হাতে পাওয়ার উপর জোর দেন তিনি।

বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সমালোচনাও করেছিলেন ড্রিসকল। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় কোম্পানিগুলি মার্কিন জনগণ এবং পেন্টাগনকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করেছে। এই মন্তব্যে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্দরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ড্রিসকল এবং হেগসেথের সম্পর্কের অবনতি আরও স্পষ্ট হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। সে সময় হেগসেথ মার্কিন আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেন। এই সিদ্ধান্তে ড্রিসকল কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

পরে আইনপ্রণেতাদের সামনে ড্রিসকল জানান, জর্জকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর পরিবার প্রাক্তন জেনারেলের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেছিল। এই ঘটনা থেকেই দু’জনের মধ্যে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও সামনে আসে। এরপর জুন মাসে ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতিও আটকে দেন হেগসেথ। ফলে পেন্টাগনের ভিতরে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল বলে দাবি বিভিন্ন মহলের।

ড্রিসকল শুধু সামরিক প্রশাসক হিসেবেই নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে তাঁকে কাজে লাগানো হয়েছিল। একজন আর্মি সেক্রেটারির জন্য এমন কূটনৈতিক দায়িত্ব ছিল যথেষ্ট বিরল। ড্রিসকলের পদত্যাগের খবরকে তাই শুধুই ব্যক্তিগত মতবিরোধের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর পিছনে মার্কিন সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, শীর্ষ সামরিক কর্তাদের নিয়োগ-বদলি এবং পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার টানাপোড়েনও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More