Mother of All Bombs: ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতা! ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের? কতটা ভয়াবহ হবে?

Mother of All Bombs: জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এটি মোতায়েন করা হতে পারে।

Published on: Oct 16, 2026, 12:09:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Mother of All Bombs: আবারও যুদ্ধ শুরুর ভাবনাচিন্তা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো এবং পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে হামলার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এ পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (AP Photo/Julia Demaree Nikhinson)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (AP Photo/Julia Demaree Nikhinson)

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের?

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এটি মোতায়েন করা হতে পারে। ইরানে এটি ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তবে ইরানের গভীরে অবস্থিত পরমাণু কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করতে বোমাটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানে হামলার জন্য নতুন কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিংবা পরে ট্রাম্প আবার সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে এসব পরিকল্পনা কাজে লাগানো হতে পারে।

একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানের ‘বিপুলসংখ্যক জ্বালানি পরিঠামো’ লক্ষ্য করে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হামলায় এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য অভিযানের সময় সম্পর্কে একটি সূত্র বলেছে, ‘সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের আগে।’ এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রশাসন নতুন করে হামলা চালিয়ে জয় ঘোষণা করতে এবং পরে অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে পারে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে তৈরি সামরিক পরিকল্পনায়ও এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কেন্দ্রগুলি মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন অন্যতম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ধারণা, ইরান সেখানে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ করেছে।

ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র ধ্বংসে কতটা কার্যকর এমওএবি?

এমওএবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। তবে ইরানে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এর কার্যকারিতা ঘিরে। বিশেষ করে ভূগর্ভের অনেক গভীরে অবস্থিত কেন্দ্র ধ্বংস করার ক্ষেত্রে বোমাটি কতটা সক্ষম, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য কম তীব্রতার হামলা থেকে শুরু করে শক্তিশালী আক্রমণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করে সামরিক বাহিনী। গভীর ভূগর্ভে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে বড় আকারের অস্ত্র প্রয়োজন হয়। এ কারণে সামরিক পরিকল্পনায় এমওএবির ব্যবহার বিবেচনা করা হচ্ছে।

জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত এই বোমাটি প্রায় নয়টি শহুরে ব্লকের সমপরিমাণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। তবে সূত্রগুলোর ধারণা, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে ধ্বংস করার মতো গভীরতায় এটি পৌঁছাতে পারবে না। ধারণা করা হয়, গ্রানাইটের একাধিক স্তর দিয়ে ওই কেন্দ্রটি সুরক্ষিত। ইরানের অন্যান্য অবশিষ্ট পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করার ক্ষেত্রেও বোমাটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র এমওএবিকে গভীর ভূগর্ভে আঘাত হানার অস্ত্রের বদলে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস বা পরিষ্কার করার উপযোগী অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। মাটিতে আঘাত করার আগেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয় এবং চারপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। এটি ব্যবহার করা হলে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। তবে তাতে গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি পরিকাঠামো কিংবা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের দাবি, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে আটকাতেই তাদের সামরিক অভিযান। যদিও পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে তেহরান।

যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এমন পথ খুঁজছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট মার্কিন জনগণের সামনে অন্তত প্রতীকী বিজয় তুলে ধরতে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনাও বজায় রাখতে চান তাঁরা। পেন্টাগনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত চতুর্থ একটি সূত্র প্রস্তাবিত কিছু সামরিক বিকল্পকে ‘আতশবাজির প্রদর্শনী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সূত্রটির মতে, এসব হামলার মাধ্যমে মূল যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত না হলেও ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ দেওয়া হতে পারে। এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প অনুমতি দিলে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আওতাধীন অঞ্চলে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ওই অঞ্চল থেকে ফিরে যাওয়া কিছু সেনার পরিবর্তে নতুন সেনা পাঠানো নাও হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেশ চাপে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় তাঁর জনপ্রিয়তা কম থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। যুদ্ধ এবং তার জেরে জ্বালানি-সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় রিপাবলিকান পার্টির উপরও প্রভাব পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া, মাদার অব অল বম্ব (MOAB)-এর মতো শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

কবে প্রথম এই বোমা ব্যবহার করা হয়?

২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবস্থানে এমওএবি ব্যবহারের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এই বোমা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আফগান সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে আইএস জঙ্গিরা ওই এলাকায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত। হামলার পর আফগান কর্মকর্তারা জানান, এতে আইএসের ৩৬ জঙ্গি নিহত হয়। মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, বিস্ফোরণে তিনটি সুড়ঙ্গ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছিল। সে সময় কোনও নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।