US Fed Rate impact on India: তিন বছর পর আমেরিকায় বাড়ল সুদের হার, ভারতের বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—সবকিছুর উপর নজর রেখেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি, বছরের শেষ নাগাদ আরও একবার সুদের হার বাড়ানো হতে পারে বলেও ফেডের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

Published on: Sep 17, 2026, 08:40:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তিন বছরেরও বেশি সময় পর ফের সুদের হার বাড়াল আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। বুধবার ফেড সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বা ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। এর ফলে আমেরিকার ফেডারেল ফান্ডস রেট এখন ৩.৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে পৌঁছেছে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন বছরেরও বেশি সময় পর ফের সুদের হার বাড়াল আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ।
তিন বছরেরও বেশি সময় পর ফের সুদের হার বাড়াল আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ।

ফেডের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানা চাপের মধ্যে রয়েছে। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—সবকিছুর উপর নজর রেখেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি, বছরের শেষ নাগাদ আরও একবার সুদের হার বাড়ানো হতে পারে বলেও ফেডের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ফেডের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে আমেরিকার বাস্তব GDP বৃদ্ধির হার ২.৩ শতাংশে পৌঁছতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি বেশি। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে ৩.৬ শতাংশের অনুমান থাকলেও এখন তা ৩.৭ শতাংশ হতে পারে বলে ফেড মনে করছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৩ সালের পর এই প্রথম আমেরিকায় সুদের হার বাড়ানো হল। ২০২৩ সালে ফেড মোট চারবার ০.২৫ শতাংশ করে সুদের হার বাড়িয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার অপরিবর্তিত ছিল। এবার ফের হার বাড়িয়ে ফেড দেখিয়ে দিল যে মূল্যবৃদ্ধি এখনও তাদের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয়।

ফেডের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ আমেরিকায় সুদের হার বাড়লে ডলারে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ভারতের মতো বাজার থেকে কিছু অর্থ সরিয়ে আমেরিকার সম্পদে বিনিয়োগ করতে পারেন। এর ফলে ভারতের বাজারে বিদেশি পুঁজির প্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় টাকার উপরও। আমেরিকায় সুদের হার বাড়ার পর ডলার শক্তিশালী হলে ভারতীয় টাকা দুর্বল হওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে তার প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে পণ্য, জ্বালানি বা কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। ফেডের সিদ্ধান্তের পর আমেরিকার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ডাও জোন্সে চাপ তৈরি হলেও S&P 500 এবং ন্যাশড্যাকে উত্থান দেখা গেছে। এখন ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার দিকে।

শুধু শেয়ারবাজার নয়, ভারতের সরকারি বন্ডের ফলন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এবং সোনার বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক সুদের হার ও ডলারের গতিপথ বদলালে বিভিন্ন বিনিয়োগ ক্ষেত্রের আকর্ষণও পরিবর্তিত হয়।

সব মিলিয়ে, আমেরিকার ফেডের ০.২৫ শতাংশ সুদ বৃদ্ধি ভারতের জন্য সরাসরি কোনও একক ধাক্কা নয়, কিন্তু এর প্রভাব একাধিক পথে আসতে পারে। ডলারের শক্তি, টাকার বিনিময়মূল্য, বিদেশি বিনিয়োগ এবং শেয়ারবাজার—আগামী দিনে এই চারটি বিষয়ই বিশেষ নজরে থাকবে। আর বছরের শেষে ফেড সত্যিই আরও একবার সুদের হার বাড়ায় কি না, সেটিও ভারতের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More