IAF Chief on US F35 Fighter Jet: ভারতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে অপমান করল আমেরিকা? কী ইঙ্গিত IAF প্রধানের কথায়?

যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে রাজস্থানের যোধপুরে হাজির হয়েছে মার্কিন বায়ুসেনার এফ৩৫ ফাইটার জেট। কিন্তু সেই বিমানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগও কি পাচ্ছেন না ভারতীয় সেনা আধিকারিকেরা?

Published on: Oct 11, 2026, 08:28:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভারতের মাটিতে এই প্রথমবার এসেছে আমেরিকার বায়ুসেনার অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫। যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে রাজস্থানের যোধপুরে হাজির হয়েছে মার্কিন বায়ুসেনার এই যুদ্ধবিমান। কিন্তু সেই বিমানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগও কি পাচ্ছেন না ভারতীয় সেনা আধিকারিকেরা? প্রশ্নটা তুলেছেন খোদ ভারতের বায়ুসেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বায়ুসেনা প্রধানের পাশে বসেই তিনি রসিকতার সুরে বলেছেন, “আপনারা আমাদের বিমানটার কাছেই যেতে দেন না, অথচ আমাদের কাছে সেটা বিক্রি করার কথা বলছেন!” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রতিরক্ষা মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। তা হলে কি ভারতকে এফ-৩৫ বিক্রির কথা বললেও প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার প্রশ্নে পিছিয়ে রয়েছে ওয়াশিংটন? ভারতে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে প্রচার, অথচ ভারতীয় আধিকারিকদের প্রবেশাধিকারেই বিধিনিষেধ! আমেরিকার এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বায়ুসেনাপ্রধানের মন্তব্যটি ছিল রসিকতার সুরে। আমেরিকা ইচ্ছা করে ভারতকে অপমান করেছে, এমন কোনও অভিযোগ তিনি সরাসরি করেননি।

ভারতের মাটিতে এই প্রথমবার এসেছে আমেরিকার বায়ুসেনার অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫। (US Air Force video by Airman 1st)
ভারতের মাটিতে এই প্রথমবার এসেছে আমেরিকার বায়ুসেনার অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫। (US Air Force video by Airman 1st)

এফ-৩৫ বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বায়ুসেনাপ্রধান

শনিবার, ১০ অক্টোবর যোধপুরে ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’ সামরিক মহড়ার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এ পি সিং। পাশে ছিলেন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বায়ুসেনা প্রধান জেনারেল কেভিন স্নাইডার।

ভারতকে এফ-৩৫ বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এ পি সিং স্পষ্ট করে দেন, আমেরিকার তরফে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ভারতকে দেওয়া হয়নি। তার পরেই মার্কিন আধিকারিকদের উদ্দেশে ওই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায় উঠে আসে, বিক্রির চর্চা চললেও বিমানটির কাছে যাওয়ার অনুমতি পর্যন্ত ভারতীয় আধিকারিকেরা পাচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, তরঙ্গ শক্তি মহড়ায় এই প্রথম ভারতের মাটিতে অংশ নিয়েছে আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। মোট ছ'টি এফ-৩৫এ নিয়ে যোধপুরে এসেছিল মার্কিন বায়ুসেনা। তবে বিমানগুলিকে ভারতীয় বায়ুসেনার অংশ থেকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেও ছিলেন স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে মার্কিন বায়ুসেনার সদস্যেরা। ফলে যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া আর যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি খুঁটিয়ে দেখার সুযোগ পাওয়া যে এক নয়, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আমেরিকার প্রস্তাব নেই, তা হলে এত আলোচনা কেন?

এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা, উন্নত সেন্সর এবং তথ্য আদানপ্রদানের আধুনিক ব্যবস্থা এই বিমানের বিশেষত্ব। কিন্তু এমন বিমান কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম বা যুদ্ধের ক্ষমতা দেখলেই চলে না। প্রযুক্তি হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র ব্যবহারের স্বাধীনতা এবং সরবরাহকারীর শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের বায়ুসেনার প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এফ-৩৫ নিয়ে আলোচনা হলেও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নেই। তাই বিমান কেনা নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রশ্নই এখন আসছে না।

রাশিয়ার সুখোই ৫৭ কি বিকল্প?

অন্য দিকে, রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সুখোই এসইউ-৫৭ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল বায়ুসেনাপ্রধানকে। এ পি সিং জানান, রাশিয়ার প্রস্তাবের কথা তাঁদের জানা আছে। তবে বিমানটির মূল্যায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। সরকারের নির্দেশ এলে তবেই দেখা হবে, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রয়োজন কতটা মেটাতে পারবে এসইউ-৫৭।

সব মিলিয়ে, এফ-৩৫ নিয়ে আমেরিকার অবস্থান ভারতের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এক দিকে উন্নত যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা, অন্য দিকে সেই বিমানের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ। তা হলে কি ওয়াশিংটন ভারতকে শুধু ক্রেতা হিসাবেই দেখতে চায়, সমান অংশীদার হিসাবে নয়? এ পি সিংয়ের রসিক মন্তব্যের আড়ালে সেই প্রশ্নই এখন প্রতিরক্ষা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ভারতের হাতে বিকল্পও রয়েছে। রাশিয়ার এসইউ-৫৭ এবং দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্পের ভবিষ্যৎই শেষ পর্যন্ত ভারতের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More