AI czar: US-র এআই জার হিসেবে জে ক্লেটনকে নিয়োগ ট্রাম্পের, নেতৃত্বে নতুন টাস্ক ফোর্স
AI czar: জে ক্লেটন বর্তমানে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত জুলাই মাসে সেনেটের অনুমোদনের পর তিনি ১৮টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
AI czar: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অগ্রগতি মানবজাতিকে বিপন্ন করে তুলতে পারে বলে এক দিকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ইলন মাস্ক, স্যামুয়েল হ্যারিস অল্টম্যানেরা। অন্যদিকে, এই প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন শিল্পবিপ্লব ঘটানোর স্বপ্ন দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এআই বাহিনী গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। এই আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ‘এআই জার’ হিসেবে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জে ক্লেটনকে নিযুক্ত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি হোয়াইট হাউসের নতুন একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআই)-এর নেতৃত্ব দেবেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জে ক্লেটন বর্তমানে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত জুলাই মাসে সেনেটের অনুমোদনের পর তিনি ১৮টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। তার এই নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এআই বিষয়ক নীতি নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবেন।
নতুন এই টাস্ক ফোর্সের লক্ষ্য সম্পর্কে ক্লেটন জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এই গোষ্ঠীটি কাজ করবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং আমেরিকান জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। টাস্ক ফোর্সটিকে ১২০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তারা এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করবে এবং ফেডারেল সরকারের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান করবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এআই শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করা হবে এবং ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, এই শিল্পকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা হবে না, বরং এর বিকাশে সহায়তা করা হবে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এআই শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট এবং হাউস স্পিকার মাইক জনসন। ওই বৈঠকে এআই ডেভেলপাররা স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও এআই শিল্পের ভেতরে নিরাপত্তা নিয়ে নানা সতর্কবার্তা রয়েছে, তবুও ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো জার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে গত মার্চ মাসে তিনি জানান যে, বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্যাকস প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের কো-চেয়ার হিসেবে কাজ করছেন।
এআই শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব যেমন অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদি এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান ফেডারেল পর্যায়ে এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি। বরং সেপ্টেম্বরের পোস্টে ট্রাম্প এআই নিয়ে ভীতি ছড়ানোর জন্য ‘র্যাডিক্যাল লেফট ডেমোক্র্যাটদের’ দায়ী করেছিলেন। এখন জে ক্লেটনের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন টাস্ক ফোর্স কীভাবে এআই নীতিমালা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে প্রযুক্তি বিশ্ব।
E-Paper

