US Military Base in Greenland: গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, আর্কটিকে বাড়ছে আমেরিকার উপস্থিতি

পরিকল্পিত দুটি জায়গার মধ্যে প্রথমটি হল দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নরসারসুয়াক। শীতল যুদ্ধের সময় এখানে আমেরিকার ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান নামে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল। ১৯৫০-এর দশকে সেটি বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। বর্তমানে নরসারসুয়াকে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন।

Published on: Sep 22, 2026, 08:58:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে চলেছে আমেরিকা। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় সেখানে আরও দুটি সামরিক ঘাঁটি খোলার পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। এই চুক্তি হলে দক্ষিণ ও পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনার নতুন করে উপস্থিতি তৈরি হবে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন নিউইয়র্কে ২২ সেপ্টেম্বর চুক্তিটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে চলেছে আমেরিকা। (REUTERS)
গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে চলেছে আমেরিকা। (REUTERS)

পরিকল্পিত দুটি জায়গার মধ্যে প্রথমটি হল দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নরসারসুয়াক। শীতল যুদ্ধের সময় এখানে আমেরিকার ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান নামে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল। ১৯৫০-এর দশকে সেটি বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। বর্তমানে নরসারসুয়াকে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। নতুন চুক্তির মাধ্যমে পুরনো ওই সামরিক স্থাপনায় আবার মার্কিন উপস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় জায়গাটি হল পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের মেস্টার্সভিগ। বর্তমানে এই অঞ্চলে ডেনমার্কের ‘সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রোল’ কাজ করে। এটি ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর একটি ইউনিট, যা দুর্গম আর্কটিক এলাকায় নজরদারি চালায়। নতুন ব্যবস্থায় ওই জায়গাতেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরি হতে পারে। সূত্রের দাবি, দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খুঁটিনাটি স্বাক্ষরের আগে আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

এই চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে সেখানে আমেরিকার একমাত্র সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি হল পিতুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক কর্মী রয়েছে। অথচ শীতল যুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মী মোতায়েন থাকতেন। নতুন ঘাঁটি খোলার পরিকল্পনা সেই পুরনো সামরিক উপস্থিতির একটি অংশ ফের ফিরিয়ে আনতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝখানে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক নজরদারি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই দ্বীপের গুরুত্ব অনেক। এই কারণেই আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে আসছে।

তবে বর্তমান উদ্যোগের পিছনে শুধু সামরিক প্রয়োজনই নয়, গত কয়েক মাসের কূটনৈতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা বলেছেন। এমনকি একসময় অঞ্চলটি অধিগ্রহণের জন্য সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি। তাঁর এই অবস্থান নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ন্যাটোর মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দেয়।

নতুন নিরাপত্তা চুক্তির ক্ষেত্রে ডেনমার্কের বক্তব্য হল, আর্কটিক নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু আমেরিকা ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ন্যাটোর বৃহত্তর কাঠামোর আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়লেও বিষয়টি ন্যাটোর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হবে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও স্বশাসনের কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য।

সব মিলিয়ে, দুই নতুন সামরিক ঘাঁটি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত আগ্রহের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। চুক্তির সম্পূর্ণ শর্ত প্রকাশ্যে আসার পরই বোঝা যাবে, নতুন ঘাঁটিগুলিতে ঠিক কতটা মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হবে এবং আর্কটিক নিরাপত্তায় এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More