'আগামী ১০ দিনের মধ্যে...,' ইরানে হামলার প্রস্তুতি তুঙ্গে, 'অর্থবহ' চুক্তি হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্পগুলি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে ৷

Published on: Feb 20, 2026, 06:25:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সুইজারল্যান্ডে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত থাকলেও তেহরানকে অবশ্যই একটি 'অর্থবহ' পরমাণু চুক্তি করতে হবে। আর তা না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (সৌজন্যে টুইটার)
ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (সৌজন্যে টুইটার)

ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে ঘিরে একটি সিদ্ধান্ত আগামী ১০ দিনের মধ্যে আসতে পারে। তাঁর কথায়, 'বছরের পর বছর ধরে প্রমাণিত হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে একটি অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় খারাপ কিছু ঘটবে।' একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানান। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই সপ্তাহান্তেই ইরানের ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি যে তিনি এমন পদক্ষেপ অনুমোদন করবেন কিনা। একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে-দুই দিকের যুক্তিই বিবেচনা করেছেন এবং সর্বোত্তম পথ কী হতে পারে সে বিষয়ে উপদেষ্টা ও মিত্রদের মতামত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আবারও ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান এবং চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন সমঝোতায় না আসে, তাহলে সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ডিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ডের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘সম্ভাব্য হামলা নির্মূল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ডের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে।' তিনি আরও দাবি করেন, এ হামলা ‘সম্ভাব্যভাবে ব্রিটেন ও অন্যান্য মিত্র দেশের উপর হতে পারে।'

যে কোনও সময়ে ইরানে হামলা?

ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কিন্তু সেকথা বলছে না। বরং এটাই একপ্রকার পরিষ্কার হচ্ছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও সময় ইরানে আক্রমণ করতে পারে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাধিক পরিমাণে বিমান মোতায়েন করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অত্যাধুনিক এফ-৩৫ এবং এফ-২২ জেট যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীও এই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে, যখন কমান্ড-এন্ড-কন্ট্রোল বিমান - যা বৃহৎ বিমান অভিযান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ - আসছে। ইরানে আক্রমণ করার আগে কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সম্মতি বাকি আছে। দাবি করা হয়েছে যে ট্রাম্প এখনও সিদ্ধান্ত নেননি যে তিনি ইরানে আক্রমণ করবেন কিনা। এবং যদি তিনি আক্রমণ করেন, তাহলে লক্ষ্য হবে ইরানের ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এবং এর ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি নিশ্চিহ্ন করা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্পগুলি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে ৷ এক মার্কিন আধিকারিক বলেন, সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের হত্যা করার মতো অভিযানের জন্য প্রস্তুত ৷' অন্যদিকে, বুধবারের ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছিলেন, 'আমরা যুদ্ধ চাই না ৷' একই সঙ্গে এও জানিয়েছিলেন, তেহরান মার্কিন দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে পারবে না। তাঁর কথায়, 'আমি যেদিন থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি, সেদিন থেকেই আমি বিশ্বাস করি যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু যদি তারা আমাদের উপর তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, আমাদের অপমান করে এবং যেকোনও মূল্যে আমাদের মাথা নত করার দাবি করে, তাহলে কী আমাদের তা মেনে নেওয়া উচিত হবে ?'