US Digital Tax Tariff Threat: ডিজিটাল কর আরোপে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ১০০% শুল্কের নিশানায় পড়বে ভারতও?

শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যে কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার উপর ডিজিটাল কর চাপায়, তবে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করবে। 

Published on: Jun 27, 2026, 12:52:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর ডিজিটাল পরিষেবা কর (Digital Services Tax) আরোপকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ঘোষণা করেন, যে কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার উপর ডিজিটাল কর চাপায়, তবে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক (Tariff) আরোপ করবে। শুধু তাই নয়, ওই দেশগুলির সঙ্গে আগে থেকে হওয়া বা ভবিষ্যতে স্বাক্ষরিত যে কোনও বাণিজ্য চুক্তিও বাতিল বলে গণ্য হবে।

ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যে কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার উপর ডিজিটাল কর চাপায়, তবে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করবে।
ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যে কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার উপর ডিজিটাল কর চাপায়, তবে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, 'যে দেশ আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর এই ধরনের কর চাপাবে, তাদের সমস্ত পণ্যের উপর সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। এই শুল্ক কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতের সমস্ত বাণিজ্য চুক্তি অকার্যকর হয়ে যাবে।' মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ডিজিটাল পরিষেবা করের মাধ্যমে মূলত আমেরিকার বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট, মেটা, অ্যাপল, অ্যামাজনের মতো সংস্থাগুলির ব্যবসার উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে এই কর ব্যবস্থা। ট্রাম্পের দাবি, এটি মার্কিন সংস্থাগুলির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক ধরনের বাধা।

তবে এই ঘোষণার ফলে ভারতের উপর তেমন কোনও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভারত ইতিমধ্যেই বহুল আলোচিত ‘গুগল ট্যাক্স’ বা ইকুয়ালাইজেশন লেভি (Equalisation Levy) প্রত্যাহার করেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়া এই কর বিদেশি ডিজিটাল সংস্থাগুলির অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের উপর ৬ শতাংশ হারে ধার্য করা হয়েছিল। পরে ই-কমার্স পরিষেবার উপর ২ শতাংশ করও চালু হয়েছিল। কিন্তু বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমাতে কেন্দ্র সরকার ধাপে ধাপে এই দুই করই প্রত্যাহার করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের উপর আরোপিত করও বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) একাধিক দেশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলেও ডিজিটাল পরিষেবা করের বিষয়টি সেই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্স ২০১৯ সাল থেকেই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দেশীয় আয়ের উপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল কর আরোপ করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের উপরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যদি প্যারিস এই কর প্রত্যাহার না করে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের জবাবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউরোপ তার নিজস্ব আইন প্রণয়নের অধিকার রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং যে কোনও বাণিজ্যিক চাপের দ্রুত ও কড়া জবাব দেবে। ফলে ডিজিটাল করকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More