US Report on Iran War: ইরান অভিযানের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে, মুখ পুড়বে ট্রাম্পের?

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের বিমান হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামো এতটাই গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক যে, তা ভেঙে পড়া অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।

Published on: Mar 08, 2026 9:34 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করেও সেই দেশে শাসন ব্যবস্থা বদলাতে পারেনি আমেরিকা। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অবশ্য ছিল ইরানের মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন। সেই লক্ষ্য অবশ্য এখনও অর্জন করতে পারেনি আমেরিকা। এই আবহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল ইরানের মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন। (Getty Images via AFP)
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল ইরানের মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন। (Getty Images via AFP)

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের বিমান হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামো এতটাই গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক যে, তা ভেঙে পড়া অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে কার্যকর রয়েছে। এই আবহে সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতেও কাজ যাবে শাসক গোষ্ঠী।

এই আবহে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি আবার বলেন, 'ইরানি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রক্রিয়াগুলি বহু দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন চাপ সত্ত্বেও তাই ইরামনের শাসক গোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরে তাদের ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম।' উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানে উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় পরিষদ) পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে। এখানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ভূমিকা নির্ণায়ক হবে। প্রয়াত নেতার ছেলে মুজতবা খামেনি ক্ষমতায় আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে, যদিও আলি লারিজানির মতো প্রবীণ নেতারা নাকি এর বিরোধিতা করছেন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মুজতবা খামেনেইকে অযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর 'ভূমিকা' থাকা উচিত। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকির খালিবাফ আবার ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি সাফ কথায় বলেছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল ইরানি জনগণই নির্ধারণ করবে, বাইরের কোনও গ্যাং নয়। এদিকে ভারতে সফররত অবস্থায় ইরানের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সইদ খতিবজাদে বলেন, 'ট্রাম্প নিজের ইচ্ছায় নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন করতে পারেন না, সেখানে তিনি নাকি ইরানের নেতা বেছে নিতে চান'। দিল্লিতে রাইসিনা সংলাপে তাঁর এই মন্তব্য শুনে হলঘর জুড়ে হাততালি পড়েছিল।

এদিকে ইরান যুদ্ধের পরিধি ভারত মহাসাগর থেকে ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সীমান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি দাবি করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করাই এই হামলার প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে ট্রাম্পের কথাতেই স্পষ্ট, বাস্তবে আমেরিকার লক্ষ্য আরও বড় ছিল। তারা ইরান থেকে মোল্লাদের শাসন পুরোপুরি উৎখাত করতে চেয়েছিল। এবং সেই চেষ্টা এখনও জারি রেখেছে আমেরিকা। যদিও মার্কিন গোয়েন্দাদের সম্মিলিত মত হল, কেবল বোমা হামলা চালিয়ে ইরানে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর আগে ২০২৫ সালে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নাকি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। তখন সেই দাবিকে খণ্ডন করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। তখন পদাধিকারীদের রদবদল করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার আমেরিকা যদি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারে, তাহলে মুখ পুড়তে পারে ট্রাম্পের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More