US-Russia Oil Deal: জ্বালানির দাম চড়ছে আমেরিকায়, পুতিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রুশ ডিজেল কেনার ঘোষণা ট্রাম্পের!

ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আপাতত ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া। নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

Published on: Oct 10, 2026, 08:05:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা। আমেরিকাতেও লাগামছাড়া ডিজেল ও পেট্রলের দাম। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আপাতত ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া। নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এর পরেও আরও জ্বালানি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার এই সমঝোতা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

US President Donald Trump (R) and Russian President Vladimir Putin shake hands at the end of a joint press conference after participating in a US-Russia summit on Ukraine at Joint Base Elmendorf-Richardson in Anchorage, Alaska, on August 15, 2025.
US President Donald Trump (R) and Russian President Vladimir Putin shake hands at the end of a joint press conference after participating in a US-Russia summit on Ukraine at Joint Base Elmendorf-Richardson in Anchorage, Alaska, on August 15, 2025.

শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল পাওয়া গেলে আমেরিকার জ্বালানির বাজারে চাপ কমবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক, পশুপালক এবং পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ট্রাকচালকদের খরচ কমানোই তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এই উদ্যোগে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

আমেরিকার জ্বালানির বাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ৪৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪.৩৭ ডলার। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ। ওই সময়ের তুলনায় ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। এখন প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬.২৮ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহণ খরচ বাড়াচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও।

কেন এই পরিস্থিতি? এর নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে হামলার পরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অচলাবস্থার জেরে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাপের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কোর উপরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা এবং তার পশ্চিমী সহযোগীরা। সেই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছিল রাশিয়ার জ্বালানি রফতানিতেও। কিন্তু এ বার আমেরিকার জ্বালানির বাজারে সরবরাহ বাড়াতে রুশ ডিজেলের জন্য সাময়িক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থ দফতর জানিয়েছে, এই ছাড়ের ফলে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে পারবে।

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউক্রেন। জেলেনস্কির বক্তব্য, আমেরিকার মতো সহযোগী দেশের কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশিত নয়। তাঁর মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এই সমঝোতা দুর্বল সিদ্ধান্তের পরিচয় দেয়। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা যখন চলছে, তখন মস্কোর জ্বালানি রফতানির সুযোগ বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সব মিলিয়ে, এক দিকে আমেরিকার বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর তাগিদ, অন্য দিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। দুইয়ের টানাপড়েনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্কে। রুশ ডিজেলের এই সরবরাহ শেষ পর্যন্ত বাজারে কতটা স্বস্তি আনে, এখন সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More