US Senate Bill on Tariff on India: মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাশ হল ভারতকে চাপে ফেলা বিল

প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রায় এক বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরও সেই উদ্যোগ থামেনি। গ্রাহামের সঙ্গে এই বিল নিয়ে কাজ করা সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের মানুষের পাশে রয়েছে আমেরিকা।

Published on: Aug 8, 2026, 09:11:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করল মার্কিন সেনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাশ হয়েছে এই বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপর চাপ বাড়ানো এবং রুশ যুদ্ধযন্ত্রের অর্থের জোগান বন্ধ করাই এই বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়ার তেল, গ্যাস-সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে থাকা দেশগুলির উপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাশ হয়েছে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ। (Getty Images via AFP)
শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাশ হয়েছে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ। (Getty Images via AFP)

প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রায় এক বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরও সেই উদ্যোগ থামেনি। গ্রাহামের সঙ্গে এই বিল নিয়ে কাজ করা সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের মানুষকে জানানো হচ্ছে যে আমেরিকা তাদের একা ছেড়ে দেবে না। পুতিনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, রাশিয়া ইউক্রেন দখল করতে পারবে না।

বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান হল রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের উপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া। সেই তালিকায় ভারত ও চিনও রয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণ ১৫ শতাংশের কম এবং সেই নির্ভরতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ করছে—এমন দেশগুলিকে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শুধু রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলিই নয়, বিলের আওতায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, শীর্ষ রুশ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তাব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রুশ জ্বালানি প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ থাকছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া যে পুরনো বা নতুন পতাকা লাগানো তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করছে, সেগুলিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্টের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া নিয়ে সেনেটে বিতর্কও হয়েছে। রিপাবলিকান সেনেটর র‌্যান্ড পল এবং ডেমোক্র্যাট রন ওয়েডেন এমন একটি সংশোধনী আনেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে সেই সংশোধনী খারিজ হয়ে যায়। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন নাগরিকদের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

ডেমোক্র্যাট সেনেটর রাফায়েল ওয়ার্নকও এই শুল্ক ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি বিলটি এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সরিয়ে নেন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার তালিকা থেকে কোনও দেশ বাদ পড়লে সেই দেশের উপর আরোপিত শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে গিয়ে দুই দলের সেনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তিনি ইউক্রেনের জন্য আরও মার্কিন সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান এবং নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানান। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাও সেনেটের সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এখন বিলটি নিয়ে নজর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের দিকে। অগস্টের শেষে কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে হাউসে দ্রুত বিলটি পাশ করার জন্য চাপ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও হাউসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অতিরিক্ত শুল্ক ক্ষমতা দেওয়া হলে তিনি তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের বদলে বৃহত্তর বাণিজ্যযুদ্ধে কাজে লাগাতে পারেন।

এই বিল শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে ভারত ও চিনের মতো রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির উপরও ওয়াশিংটনের চাপ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More