US-India: 'চিনে যাওয়ার সময় ফোন...,' ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মার্কিন সেনেটর
US-India: মার্কিন সেনেটর তাঁর বক্তব্যে ভারতকে ‘বিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
US-India: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এই আবহে ভারত প্রসঙ্গে একজন প্রভাবশালী মার্কিন সেনেটরের সরাসরি মন্তব্য সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

রিপাবলিকান সেনেটর স্টিভ ডেইনস সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের ফোন হাতে নিয়ে বলেছেন, 'চিনে যাওয়ার সময় আমি এই ফোন ওয়াশিংটনে রেখে যাই। কিন্তু ভারতে যাওয়ার সময় এটি সঙ্গে নিয়ে যাই। এটাই দেখায় আমি ভারতকে কতটা বিশ্বাস করি। চিনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।' এই সাধারণ কথাটি শুধু একজন ব্যক্তির অভ্যাস নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে চলতে থাকা গভীর অবিশ্বাসের প্রতিফলন। সেনেটর ডেইনস মন্টানা থেকে নির্বাচিত একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
তবে এখনও মার্কিন মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থরা চিনে গেলে অস্থায়ী যোগাযোপগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। চিনের কঠোর সাইবার নজরদারি ও গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কায় এটি এখন প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেনেটর ডেইনস তাঁর বক্তব্যে ভারতকে ‘বিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। দুই দেশের মধ্যে কোয়াড জোট, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, মার্কিন সেনেটর জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বাসের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করা ওয়াশিংটনের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, 'এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এটি এতটাই বড় যে একে ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না। আমরা চিন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না। আমাদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। আমাদের এটা করতেই হবে।' তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর একটি ব্যাপক বৈশ্বিক গুরুত্ব রয়েছে।
ইউএসআইএসপিএফ অ্যানুয়াল লিডারশিপ সামিট, ২০২৬-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি আরও বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, তা শুধু আমাদের দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি মনে করি, এটি সমগ্র বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।' স্টিভ ডেইনস বলেন, চিনের তৈরি করা ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় ভারতের ভূমিকার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আরও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, 'বিশ্বে কেবল একটি দেশই রয়েছে যা চিনের উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের আকার এবং মাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে, আর তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যৌথভাবে কাজ করা।'
ভারতে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিন্তে তাদের ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন, যা চিনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। কেন চিনে এত ভয়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চিনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত তথ্যের কোনও গোপনীয়তা নেই। চিনা আইন অনুসারে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে যে কোনও সময় তথ্য দিতে হয়। তাই অনেক মার্কিন প্রতিনিধি দল চিন সফরে গিয়ে ‘ডিজিটাল লকডাউন’ মেনে চলে। ব্যক্তিগত ডিভাইস না নিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় অস্থায়ী ফোন ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রায়। দুই দেশের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেনেটর ডেইনসের মন্তব্যে এই বাস্তবতাই উঠে এসেছে।
E-Paper

