AI development: 'এআই উন্নয়ন থামান!' ট্রাম্প-জিনপিংকে চুক্তির প্রস্তাব মার্কিন সেনেটরের
AI development: একদিকে এআই-কে দ্রুত উন্নত করার প্রতিযোগিতা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন-সহ বিভিন্ন দেশে। অন্যদিকে, প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ভবিষ্যতে মানবসমাজ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও তথ্যব্যবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
AI development: সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নিয়ে রেষারেষির মাঝেই এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী হয় প্রযুক্তি দুনিয়া। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির লাগামহীন বিকাশ কিছুটা শ্লথ বা ধীর করার পক্ষে একমত হন বিশ্বের তিন শীর্ষস্থানীয় টেক-জায়ান্ট। এবার তাঁদের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে এআই উন্নয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করার আহ্বান জানালেন মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

রবিবার এক্সে হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) সিইও দারিও আমোদে, ওপেনএআইয়ের (OpenAI) প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের (xAI) কর্ণধার ইলন মাস্ক এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে একমত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তবে তাঁর মতে, শুধু এই আহ্বান যথেষ্ট নয়। স্যান্ডার্স বলেন, এআই-এর উন্নয়নকে আরও ধীরগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ‘ফ্রন্টিয়ার’ বা সর্বাধুনিক পর্যায়ের এআই উন্নয়নকে নিয়ন্ত্রিত গতিতে পরিচালনার বিষয়ে তিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার অবস্থান পরিবর্তন একটি শুরু হতে পারে। কিন্তু এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বড় পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠককে কাজে লাগিয়ে এআই উন্নয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান। স্যান্ডার্সের এই মন্তব্য আসে তিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরল যৌথ অবস্থানের এক দিন পর। অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদে, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের কর্ণধার ইলন মাস্ক এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিশেষ করে অত্যাধুনিক বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই অবস্থান সামনে এসেছে। আমোদে এর আগে একটি ব্লগ পোস্টে এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির উন্নয়নকে এমনভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে এর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে পারে।
এআই নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি খাতের মধ্যেই মতভেদ বাড়ছে। একদিকে এআই-কে দ্রুত উন্নত করার প্রতিযোগিতা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন-সহ বিভিন্ন দেশে। অন্যদিকে, প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ভবিষ্যতে মানবসমাজ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও তথ্যব্যবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। স্যান্ডার্সের প্রস্তাব সেই উদ্বেগকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু কোনও একটি প্রতিষ্ঠান বা দেশের পক্ষে এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মতো এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা ছাড়া বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন। তবে এআই উন্নয়ন পুরোপুরি স্থগিত রাখা বা গতি কমানোর বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকার ও গবেষকদের মধ্যে ঐকমত্য নেই। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির পক্ষের অনেকে মনে করেন, এআই চিকিৎসা, বিজ্ঞান, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুফল দিতে পারে। আবার সমালোচকদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অত্যাধুনিক এআই তৈরি হলে এর অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ‘এআই উন্নয়ন থামানো’ নিয়ে স্যান্ডার্সের আহ্বান নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও বেজিং যদি এআই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় বসে, তাহলে ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণে নতুন ধরনের বৈশ্বিক কাঠামো তৈরির পথ খুলতে পারে।
E-Paper

