'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন...,' হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় US-কে সহযোগিতা ভারতের? ইঙ্গিতবাহী বার্তা...

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে জাপান।

Published on: Mar 16, 2026 12:23 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়াতে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে। যার জেরে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি সঙ্কটে। এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য একটি আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই জোটের কাজ হবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি-চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। এই আবহে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে পারে ভারত।

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় US-কে সহযোগিতা ভারতের? (Getty Images via AFP)
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় US-কে সহযোগিতা ভারতের? (Getty Images via AFP)

সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহায্যের জন্য অন্যান্য দেশের কাছে 'যোগাযোগ' করছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প তাঁকে এমন কয়েকটি দেশের কথা বলেছেন যারা 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' ক্রিস রাইটের কথায়, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার আমাকে বলেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে অন্যান্য দেশের সাহায্য চাইছেন। এবং তারপর দিনের শেষের দিকে একটি পোস্টে তিনি কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন-চিন, জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং দক্ষিণ কোরিয়া। তিনি আমাকে বলেছেন যে কয়েকটি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।' তবে হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে সাহায্যকারী দেশগুলির সুনির্দিষ্ট নাম সম্পর্কে জানতে চাইলে, ক্রিস রাইট প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভারত-সহ কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্টের সামনে কোনও খবর ফাঁস করব না। বিশ্ব হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলপ্রবাহের উপর নির্ভর করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এশিয়ান দেশগুলি- জাপান, কোরিয়া, চিন, থাইল্যান্ড, ভারত, তাদের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী থেকে আসে। তাই সমগ্র বিশ্ব হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের অন্যান্য দেশ সমর্থন করবে।' সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পও লেখেন, 'অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় প্রভাবিত হচ্ছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালী খোলা ও নিরাপদ থাকে।' তবে মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে এই জলপথে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে জাপান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা টোকিওর নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা এসকর্ট জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কী করা যেতে পারে তা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।’

হরমুজ প্রণালী কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবহণ করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছয়। ওপেকভুক্ত দেশগুলি, যেমন সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-অধিকাংশ তেল রফতানি করে এই পথেই। এশিয়ার বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চিন, ভারত এবং বাংলাদেশ। এছাড়াও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রফতানিকারক দেশ কাতার। তাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পুরোটাই এই হরমুজ প্রণালী হয়ে বিশ্বের বাজারে পৌঁছয়। মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়েই যায়। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। গত ৪ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালীর উপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ঘোষণা করে এবং হুঁশিয়ারি দেয়। অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ গেলে হামলা করা হবে। আর এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের বেশি বেড়ে গিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা ২০০ ডলারেও পৌঁছতে পারে।