মার্কিন ভোটের ফলের উচ্ছ্বাস ২৪ ঘণ্টাও টিকল না, ওয়াল স্ট্রিটে ভয়াবহ ধস! ১৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিন শেয়ার বাজারের

বৃহস্পতিবারের এই ধসের ফলে বুধবারের নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্ত উচ্ছ্বাস কার্যত মুছে গিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে রয়েছে মূলত তিনটি কারণ। এআই শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন আশঙ্কা, মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা।

Published on: Nov 6, 2026, 09:27:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধাক্কা। আর তার ঠিক পরের দিনই উল্টে গেল মার্কিন শেয়ার বাজারের ছবিটা। ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বুধবার ওয়াল স্ট্রিটে যে বিপুল উত্থান দেখা গিয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা কার্যত উবে গেল। উল্টে গত ১৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়ল প্রযুক্তিনির্ভর সূচক নাসডাক। এক ধাক্কায় ৫.৫৬ শতাংশ নেমে গেল এই সূচক। ডাও জোন্স পড়ল ৩.৪ শতাংশ। অন্য দিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের পতন ৪.৪ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিল মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ঘোষণার পর এত বড় পতন দেখেনি এই সূচক।

A screen displays the Nasdaq 100 during the trading day at the Nasdaq Market site in New York City, U.S., November 5, 2026.  REUTERS/Brendan McDermid (REUTERS)
A screen displays the Nasdaq 100 during the trading day at the Nasdaq Market site in New York City, U.S., November 5, 2026. REUTERS/Brendan McDermid (REUTERS)

বৃহস্পতিবারের এই ধসের ফলে বুধবারের নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্ত উচ্ছ্বাস কার্যত মুছে গিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে রয়েছে মূলত তিনটি কারণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন আশঙ্কা, মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা।

এআই শিল্পে নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা

বৃহস্পতিবারের পতনের অন্যতম বড় কারণ এআই শিল্প নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ এবং কংগ্রেসে শক্তি বাড়িয়েছে। ফলে আগামী দিনে আমেরিকায় বড় বড় ডেটা সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এআই প্রযুক্তির প্রসারের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ, জল এবং পরিকাঠামোর প্রয়োজন। আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে ডেটা সেন্টার তৈরির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে প্রতিবাদ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা বাড়ানোর পর এই ধরনের প্রকল্পে অনুমোদন পেতে আরও বাধা তৈরি হতে পারে। বিদ্যুতের বাড়তি খরচ যাতে সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সে জন্য নতুন আইন আনার পক্ষেও সওয়াল করছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। এআই ব্যবস্থার স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষার দাবিও উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি শুরু হয়। এএমডির শেয়ার প্রায় ১১ শতাংশ পড়ে যায়। এসকে হাইনিক্সের পতন প্রায় ৮ শতাংশ। মাইক্রনের শেয়ার কমে ৬.৫ শতাংশ। ইন্টেলের দরও প্রায় ৬ শতাংশ নেমে যায়। এনভিডিয়া এবং ব্রডকমের শেয়ারেও পতন দেখা যায়।

এক দিনের উত্থানের পর মুনাফা তুলে নিলেন বিনিয়োগকারীরা

বুধবার ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর মার্কিন শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থান হয়েছিল। ডাও জোন্স এক দিনেই ১৫০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাকও প্রায় দেড় শতাংশ করে উপরে উঠেছিল। বিনিয়োগকারীদের একাংশের ধারণা ছিল, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বাড়লে ট্রাম্পের একতরফা নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা কমবে। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তাও কমতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই উত্থানের সুযোগে বহু বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়।

তেলের দামেও অস্থিরতা

বুধবার ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর আমেরিকা-ইরান সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই আশায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের নীচে নেমে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি বদলায়। ফের প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছয় ব্রেন্ট ক্রুড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়েই ওয়াল স্ট্রিটে এই বড় ধস। নির্বাচনের ফলাফল যে সব সময় বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলে না, বৃহস্পতিবারের ঘটনাই তার প্রমাণ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More