US Temple Vandalsim: আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ইট ছুড়ে হামলা, ভিতরে ছিলেন পুরোহিত ও ভক্ত! ওহায়োয় চাঞ্চল্য

হিন্দু অ্যাডভোকেসি সংগঠন কোয়ালিশন অফ হিন্দুজ অফ নর্থ আমেরিকা বা কোহনা জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা মন্দিরের দিকে ইট ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাতেই একাধিক জানলার কাচ ভেঙে যায়।

Published on: Oct 3, 2026, 14:52:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

আমেরিকার ওহায়োতে হিন্দু মন্দিরে ইট ছুড়ে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকার রিচমন্ড হাইটসে অবস্থিত শ্রী স্বামিনারায়ণ হিন্দু টেম্পল ভডতালধামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে হিন্দু সংগঠনগুলি। ঘটনায় মন্দিরের বেশ কয়েকটি জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে এবং ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হামলার সময় মন্দিরের ভিতরে পুরোহিত এবং কয়েক জন ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ইট ছুড়ে হামলা, ভিতরে ছিলেন পুরোহিত ও ভক্ত!
আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ইট ছুড়ে হামলা, ভিতরে ছিলেন পুরোহিত ও ভক্ত!

হিন্দু অ্যাডভোকেসি সংগঠন কোয়ালিশন অফ হিন্দুজ অফ নর্থ আমেরিকা বা কোহনা জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা মন্দিরের দিকে ইট ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাতেই একাধিক জানলার কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রিচমন্ড হাইটসের মেয়র কিম থমাস এবং শহর কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রকাশ্যে ঘটনার নিন্দা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। মন্দিরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন বা এইচএএফ। সংগঠনটির তরফে জানানো হয়েছে, সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এফবিআই এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষকেও ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ্যে আসেনি এবং গ্রেফতারের খবরও পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘হেট ক্রাইম’ বা বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করার দাবি তুলেছে হিন্দু সংগঠনগুলি। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অনলাইনে হিন্দু ও ভারতীয় আমেরিকানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের পর সেই পরিবেশ বাস্তব জীবনের হামলায় পরিণত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনের উচিত দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। তবে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা এখনও হামলার ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে ঘটনাটিকে হেট ক্রাইম বলা হচ্ছে মূলত সংগঠনগুলির অভিযোগ এবং আশঙ্কার ভিত্তিতে।

এই ঘটনার সময়টিও নজর কেড়েছে। ওহায়োতে হিন্দু হেরিটেজ মাস শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তার কিছু দিনের মধ্যেই নবরাত্রি উৎসব শুরু হওয়ার কথা। ফলে মন্দিরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কোহনা জানিয়েছে, ধর্মীয় উৎসবের আগে এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

আমেরিকায় হিন্দু ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুরের অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। হিন্দু সংগঠনগুলির তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও হিন্দু ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর বা বিদ্বেষমূলক লেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে নিউ ইয়র্কের একটি মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর এবং ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিএপিএস মন্দিরে হামলার ঘটনাও তারা নথিভুক্ত করেছে।

এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং হামলার উদ্দেশ্য খুঁজে বার করা। মন্দিরে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের। ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল, নাকি আচমকা হামলা, তারও উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, হামলার সময় মন্দিরের ভিতরে মানুষ থাকলেও কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More