ভারতের ওপর ১০০% ট্যারিফ? মার্কিন হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২১৪-২১১ ভোট বিলে

এই বিলের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারতের নাম বিশেষভাবে সামনে আসছে। কারণ রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তুলনামূলক সস্তা রুশ তেল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Published on: Sep 16, 2026, 13:59:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর পথ আরও এক ধাপ এগোল আমেরিকায়। মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলটি এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে আগস্টে মার্কিন সেনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। এখন হাউসে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যাবে। আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে থাকা দেশগুলির উপর বড় অঙ্কের অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর পথ আরও এক ধাপ এগোল আমেরিকায়। (REUTERS)
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর পথ আরও এক ধাপ এগোল আমেরিকায়। (REUTERS)

এই বিলের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারতের নাম বিশেষভাবে সামনে আসছে। কারণ রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তুলনামূলক সস্তা রুশ তেল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ভারতের সামনে একসঙ্গে দুটি চাপ তৈরি হতে পারে—একদিকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন চাপ, অন্যদিকে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্কের ঝুঁকি।

আমেরিকার প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে আয় কমানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোর আর্থিক সক্ষমতার উপর চাপ তৈরি করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস আমদানিকারী কয়েকটি বড় দেশকে অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় আনা হতে পারে। ভারত ও চিনের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলিও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে।

শুধু রাশিয়া নয়, ইরানের ক্ষেত্রেও এই বিলের প্রভাব পড়তে পারে। ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথ খুলে দিতে পারে নতুন আইন। ফলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা নীতির পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ভারত নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, রুশ তেল আমদানির সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় স্বার্থ, বাজার পরিস্থিতি এবং জ্বালানির প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতা দীর্ঘদিনের এবং দুই দেশ বেসামরিক পরমাণু শক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। কুডানকুলম প্রকল্পকে এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশ তার অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজনের একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক—সবকিছুকেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। রুশ তেলের তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক দাম ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে আমেরিকার সম্ভাব্য ট্যারিফের প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতীয় পণ্যের আমদানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল ও পোশাক, রত্ন-গয়না এবং অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের মতো রফতানি ক্ষেত্রগুলি বেশি চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বড় বাজারগুলির মধ্যে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত শুল্ক ভারতীয় রফতানিকারকদের খরচ ও প্রতিযোগিতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে একটি বিষয় এখনও নিশ্চিত নয়। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রস্তাব এগোলেও আইনটি শেষ পর্যন্ত কোন রূপে পাশ হবে এবং ভারতের মতো দেশগুলির উপর বাস্তবে কী মাত্রায় ট্যারিফ আরোপ করা হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তাই আপাতত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি।

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে চাপ বাড়লেও ভারতের প্রকাশ্য বার্তা হল—জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে সামনে বড় পরীক্ষা ভারতের কূটনীতি ও অর্থনীতির। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সহযোগিতা—দুই দিক সামলে এগোতেই হবে নয়াদিল্লিকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More