Scott Bessent on India: 'ভারতীয়রা ভালো পদক্ষেপ করেছে', রাশিয়ান তেল ইস্যুতে বললেন টাম্পের ট্রেজারি সেক্রেটারি
স্কট বেসেন্ট বলেন, 'বিশ্ব জুড়ে তেলের সরবরাহ ভালোই আছে। তবে ট্রেজারি দফতর আমাদের সহযোগী ভারতকে সেই রাশিয়ান তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে যেটা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে আছে। ভারতীয়রা ভালো পদক্ষেপ করেছে। আমরা তাদের শীতকালে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলান। তারা সেটা করে।'
রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতকে 'ছাড়' দিয়েছে আমেরিকা। এই আবহে এবার বড় মন্তব্য মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি বললেন, 'ভারতীয়রা ভালো পদক্ষেপ করেছে।' স্কট বেসেন্ট বলেন, 'বিশ্ব জুড়ে তেলের সরবরাহ ভালোই আছে। তবে ট্রেজারি দফতর আমাদের সহযোগী ভারতকে সেই রাশিয়ান তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে যেটা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে আছে। ভারতীয়রা ভালো পদক্ষেপ করেছে। আমরা তাদের শীতকালে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলান। তারা সেটা করে। সেই তেলের বদলে মার্কিন তেল কেনার কথা ছিল আমেরিকার। তবে গোটা বিশ্বে তেল সরবরাহে একটা ফারাক দেখা দিয়েছে। সেটা পূরণ করতেই রাশিয়ান তেল কিনতে দিয়েছি ভারতকে।'

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রকেট গতিতে উর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার 'ছাড়' দেয় আমেরিকা। ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে বলে আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি 'নির্দেশিকা' জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই যে রাশিয়ান তেল সাগরে রয়েছে, তা কিনতে পারে ভারতীয় শোধনাগারগুলি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ান তেল কেনার জন্যে বিগত বশ কয়েক মাস ধরে এই শুল্ক ধার্য করা ছিল ভারতের ওপর। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ফলে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমায় আমেরিকা। তবে সেই সময় ট্রাম্প 'হুঁশিয়ারি' দিয়েছিলেন, ভারত যদি আবার রাশিয়ার তেল কেনে, তাহলে ভারতের ওপর ফের শুল্ক চাপানো হবে। পরে বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত 'ফ্যাক্টশিট'-এ হোয়াইট হাউজ প্রথমে দাবি করে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে। এবং সেই ফ্যাক্টশিট জারির একদিনের মাথায় তা 'সংশোধন' করা হয়। এবং বলা হয়, ভারত রুশ তেল কেনা কমানোর চেষ্টা করবে।
এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লি বলেছিল যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সময় ভারত জানিয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে যাতে তেলের দাম না বেড়ে যায়, তার জন্য আমেরিকাই ভারতকে বলেছিল রুশ তেল কিনতে। তবে ট্রাম্প মুখে দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে ট্রাম্পের জমানাতেই। এদিকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ভারত সেই দাবি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই নিজের মনের মতো গল্প বানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নাকি মোদীকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলেন। এবং যুদ্ধ করলে বাণিজ্য চুক্তি না করা নিয়ে মোদীকে বার্তা দেওয়ার পর নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, 'না না বাণিজ্য চুক্তি তো করতে হবে'। ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে করেছিলাম। আমি দুই দেশকেই বলেছিলাম যে আমি প্রতিটি দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব... যার মানে তারা কখনও আর আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। আমি শুল্কের কথা বলে শুধু ভালো ভাষায় বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমরা আপনার সাথে ব্যবসা করতে চাই না।' তবে সম্প্রতি পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষতে প্রলেপ পড়েছে। ভারতের শুল্ক কমার দিনেই নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা এগিয়েছে। আর ইরান যুদ্ধের আবহে ফের ভারতকে রুশ তেল কিনতে বলল আমেরিকা।
ভারতীয় শোধনাগারগুলি প্রতিদিন প্রায় ৫.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়া করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের অপরিশোধিত চাহিদার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মেটাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত রাশিয়া। রিপোর্ট অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভারতে অপরিশোধিত রাশিয়ান তেল আমদানি কমে দৈনিক ১.১ মিলিয়ন ব্যারেল হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পরে যা সর্বনিম্ন। সূত্রটি জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারিতে অবশ্য রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির হার ৩০ শতাংশে ফিরে এসেছে। দুটি শোধনাগারের সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় রিফাইনারগুলি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে রাশিয়ার তেল কেনার হার বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের নির্দেশনার উপর নির্ভর করবে। কারণ ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভারত যদি ফের রাশিয়ার তেল কেনা বাড়ায়, তাহলে তিনি ফের শুল্ক চাপাবেন ভারতের ওপরে। যদিও বা ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লাগার আশঙ্কা দেখা দিতেই নিজের আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প।
এদিকে আগেই রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ভারতে তেল পাঠাতে প্রস্তুত। ভারতীয় জলসীমায় অ-রাশিয়ান জাহাজে প্রায় ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা ভারতে পৌঁছাতে পারে। অপরদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলায় এখনও পর্যন্ত একাধিক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper











