বিস্ফোরণ হতেই ছড়িয়ে পড়ে ধাতব কণিকা! ইরান যুদ্ধে অপরীক্ষিত নয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার USর : Report

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ধরনের যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তা একটি স্বল্প পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল।

Published on: Mar 30, 2026, 22:20:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

থেমে থেমে অশান্ত হয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের তরফে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল তা বর্তমানে বহন করছে ইরান। পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও ফের চরমে পৌঁছেছে উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের লামের্দ শহরের একটি স্কুলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি এর আগে কোনও যুদ্ধে ব্যবহার করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

ইরান যুদ্ধে নয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার USর (সৌজন্যে টুইটার)
ইরান যুদ্ধে নয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার USর (সৌজন্যে টুইটার)

অপরীক্ষিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো পরীক্ষা করা হয়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের বরাতে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদন অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি লামের্দ শহরে এই হামলাটি এমন সময় ঘটেছিল, যখন একই দিনে ইরানের আরেক শহর মিনাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি স্কুলে ১৭৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপরীক্ষিত এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি স্পোর্টস হল। ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ধরনের প্রিসেশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম) যা আগে কোনও যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ধরনের যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তা একটি স্বল্প পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল। ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর ওপরে বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে ধাতব কণিকা ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে বিস্তৃত এলাকায় ক্ষতি হয়। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধের জন্য পরীক্ষা করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি এবং হামলার পরবর্তী ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন এই মিসাইলের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি অবস্থান লক্ষ্য করলেও এই হামলাগুলোতে বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত লাগায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির গত বছর প্রোটোটাইপ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। লামের্দ হামলায় প্রথমবারের মতো এটিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), যারা ১ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টার একটি উৎক্ষেপণের ভিডিও পোস্ট করে। কয়েকদিন পর সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, পিআরএসএম প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে লামের্দ হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা, তা মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেনি।