US MH-60R Seahawk Delivered to Ind Navy: চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-চ্যালেঞ্জের মাঝে ভারতের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন হেলিকপ্টার
ভারত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সঙ্গে ২৪টি এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো বহরকে আধুনিক প্রযুক্তির হেলিকপ্টার দিয়ে শক্তিশালী করা এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।
US MH-60R Seahawk Delivered to Indian Navy: ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হল আরও একটি অত্যাধুনিক এমএইচ-৬০আর (MH-60R) সিহক মাল্টি-রোল নৌ-হেলিকপ্টার। শুক্রবার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কেরলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে এই হেলিকপ্টারটি তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি সপ্তাহেই আরও দুটি এমএইচ-৬০আর সিহক ভারতে পৌঁছতে চলেছে। এর মাধ্যমে ভারত-আমেরিকার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলেও জানিয়েছে দূতাবাস।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (আগের টুইটার)-এ মার্কিন দূতাবাস একটি পোস্টে জানায়, লকহিড মার্টিন নির্মিত অত্যাধুনিক এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি এবং যুদ্ধ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পোস্টে বলা হয়েছে, ভারত-আমেরিকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আরও গভীর হচ্ছে এবং এই হেলিকপ্টার সরবরাহ তারই প্রতিফলন।
ভারত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সঙ্গে ২৪টি এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো বহরকে আধুনিক প্রযুক্তির হেলিকপ্টার দিয়ে শক্তিশালী করা এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। ২০২১ সালে এই চুক্তির আওতায় প্রথম তিনটি এমএইচ-৬০আর ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছেছিল। এরপর ধাপে ধাপে বাকি হেলিকপ্টারগুলি সরবরাহ করা হচ্ছে।
এমএইচ-৬০আর সিহক মূলত আমেরিকার বিখ্যাত ব্ল্যাক হক (Black Hawk) হেলিকপ্টারের সামুদ্রিক সংস্করণ। এটি লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন তৈরি করেছে এবং বিশ্বের অন্যতম আধুনিক নৌ-হেলিকপ্টার হিসেবে পরিচিত। সব ধরনের আবহাওয়ায় অভিযান চালাতে সক্ষম এই হেলিকপ্টারে রয়েছে অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিক্স, উন্নত সেন্সর, রাডার এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হেলিকপ্টারের সবচেয়ে বড় শক্তি হল সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা। পাশাপাশি এটি জাহাজবিরোধী অভিযান, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার (Search and Rescue), বিশেষ বাহিনী মোতায়েন, সামুদ্রিক টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং চিনের নৌ-উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এমএইচ-৬০আর সিহকের অন্তর্ভুক্তি ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। উন্নত সেন্সর এবং সাবমেরিন-বিধ্বংসী প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারত সমুদ্রপথে নজরদারি আরও কার্যকরভাবে চালাতে পারবে বলে তাঁদের মত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের ২৮ নভেম্বর ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এমএইচ-৬০আর হেলিকপ্টার বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য আমেরিকার সঙ্গে প্রায় ৭,৯৯৫ কোটি টাকার একটি চুক্তিপত্র বা লেটার অব অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্ট্যান্স (LOA)-এ স্বাক্ষর করে। পাঁচ বছরের জন্য এই সহায়তা চুক্তি মার্কিন সরকারের ফরেন মিলিটারি সেলস (Foreign Military Sales) কর্মসূচির আওতায় সম্পন্ন হয়। এর ফলে শুধু হেলিকপ্টার কেনাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং অপারেশনাল প্রস্তুতিও নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টারের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক শক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতারও স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


