USA Probing Indian Business Practice: বাণিজ্য ক্ষেত্রে আরও একটি মার্কিন তদন্তের অধীনে ভারত, তালিকায় নাম পাক-বাংলাদেশেরও

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, 'জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত রয়েছে। তা সত্ত্বেও জোরপূর্বক শ্রম থেকে উৎপাদিত পণ্যগুলিকে তাদের বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তারা সেই সব পণ্য নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।'

Published on: Mar 13, 2026 12:38 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে উৎপাদিত পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষেত্রে তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা মূল্যায়ন করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু করেছে। সেই দেশগুলির তালিকাতেও এবার রয়েছে ভারত। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, 'জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত রয়েছে। তা সত্ত্বেও জোরপূর্বক শ্রম থেকে উৎপাদিত পণ্যগুলিকে তাদের বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তারা সেই সব পণ্য নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।'

বাণিজ্য ক্ষেত্রে আরও একটি মার্কিন তদন্তের অধীনে ভারত
বাণিজ্য ক্ষেত্রে আরও একটি মার্কিন তদন্তের অধীনে ভারত

শুধু ভারত নয়, এই আবহে মার্কিন তদন্তের আওতায় পড়েছে পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলিও। এছাড়া রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, কম্বোডিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, মিশর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইজরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটেন, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা, ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্র কেন এই তদন্ত শুরু করেছে? ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১(বি)-এর অধীনে এই তদন্ত করা হবে। মার্কিন ব্যবসাকে প্রভাবিত করে এমন অন্যায্য বিদেশি অনুশীলনের ক্ষেত্রে এই তদন্ত হবে। এই একই আইন যার অধীনে ১৬টি দেশের ওপর আরও একটি তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা। সেই তালিকাতেও ভারত ও বাংলাদেশ রয়েছে। গ্রিয়ার বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করতে চায় যে দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা। এবং সেটা তারা করতে ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায় তা কীভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতসহ অনেক দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ও অন্যান্য জরিমানা আরোপের পথ প্রশস্ত হতে পারে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি খারিজ করে দেওয়ার পরে এই তদন্ত শুরু হল। মনে করা হচ্ছে, অন্য দেশের ওপর শুল্ক চাপানোর বিকল্প হিসেবে এই তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইস্পাত, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টরের মতো উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে এই তদন্ত করা হচ্ছে। আমেরিকার বিশ্বাস, মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে এই বিষয়টি।

উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়ে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল করেছিল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক শুল্ক নীতি আদতে বেআইনি। এবং এতদিন ধরে এই নীতিতে যত কর সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত। আর সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন বারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে জরুরি ক্ষমতার অধীনে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন শীর্ষ আদালত।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের 'আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা' আইনের (আইইইপিএ) অধীনে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই আইনের বলে একতরফা ভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল ভারত সহ অনেক দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আগের মতোই প্রায় ৩.৫ শতাংশে এ ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও ট্রাম্প ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। এরই সঙ্গে যে যে দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আমেরিকার কথাবার্তা চলছিল, তাদের সেই চুক্তি মানতে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই নয়া তদন্ত সেই চাপ সৃষ্টিরই একটি কৌশল মনে মনে করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More