India-US ties: ভারত-মার্কিন সম্পর্ক, বাণিজ্য আলোচনা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বিল, কোন দিকে নজর রাখতে হবে?

India-US ties: উদ্বেগজনক এই বিলটির প্রভাব নিয়ে ভারতীয় এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Published on: Sep 18, 2026, 13:26:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India-US ties: রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ অনুমোদনের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Bloomberg)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Bloomberg)

ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

এখন কী হবে?

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক, তবে এই নতুন ক্ষমতা তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কীভাবে প্রয়োগ করবেন বা কতটা শুল্ক বসাবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুল্কের হার নির্ধারণের মূল দায়িত্ব থাকবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের ওপর। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য মতে, গত জুনে ভারতের রুশ তেল আমদানি আগের মাসের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৫ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছিল, যা রাশিয়ার মোট রপ্তানির প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং চিনের পর ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতায় পরিণত করেছে।

ভারত কী করবে?

উদ্বেগজনক এই বিলটির প্রভাব নিয়ে ভারতীয় এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, তারা মার্কিন প্রতিনিধিদলকে বিলটির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগামী তিন মাসে তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় কী প্রভাব?

এই নিষেধাজ্ঞা বিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এশিয়ার অন্য অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দীদের চেয়ে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিতের নিশ্চয়তা চেয়ে আসছে নয়াদিল্লি।

এর আগে বাধ্যতামূলক শ্রমের অভিযোগে ভারতের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপায় ওয়াশিংটন। এছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চলমান আরও একটি তদন্তের কারণে অতিরিক্ত শুল্কের ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত, যা পাকিস্তান-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন করে তুলবে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

বিলটি পাস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চিন এই একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বাতিল করেছে এবং ক্রেমলিনের মুখপাত্র একে একটি ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। বিপরীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।