US-Iran talks: দোহায় US-ইরান বৈঠক শেষ: হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত
US-Iran talks: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি।
US-Iran talks: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় বুধবার পরোক্ষ আলোচনার একটি পর্ব শেষ করেছে। তবে এ আলোচনায় স্থায়ী শান্তির পথে কোনও অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং দুই সপ্তাহ আগে ঘোষিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় যে সব বিষয়ের সমাধান হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, এবারের আলোচনায় সেগুলোতেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা দোহায় দুই দিন ধরে বৈঠক করেছেন। তাঁরা মূলত প্রাথমিক চুক্তির দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক নৌচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা, বিদেশে বাজেয়াপ্ত হয়ে থাকা ইরানের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে টোল বা শুল্ক আদায়ের জন্য তাদের যে দাবি, তা সমগ্র মার্কিন-ইরান চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে-যা তেহরানের জন্য অনেক বেশি লাভজনক হতে পারত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, 'ইরানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ছিল 'আরও বড় কিছু ভাবুন।' ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর- তেল এবং অন্যান্য সম্পদ অবাধে বিক্রি করে তেহরান যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবে, তা 'গ্যাংস্টার বা দুষ্কৃতীদের মতো কৌশল ব্যবহার করে টোল আদায়ের চেষ্টার চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ বেশি মূল্যবান হবে।'
কেন হরমুজ প্রণালী ফের আলোচনায়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। ওমান উপকূলের কাছাকাছি হরমুজে একটি নতুন নৌ-পরিবহন রুট তৈরি হওয়া আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে এবং এর ফলেই গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরান গত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রণালীর ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরান জানিয়েছে যে, উভয় দেশ মিলে হরমুজ প্রণালী পরিচালনা করবে এবং সমঝোতা স্মারক-এর ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চলাচলের জন্য ফি বা শুল্ক দাবি করবে।
গত মাসে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই এই ৬০ দিনের মেয়াদ শুরু হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো। এর শেষ সময়সীমা হলো ১৮ আগস্ট। সমঝোতা স্মারকের ব্যাখ্যা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে; 'অ্যাক্সিওস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে এই প্রণালীতে যে কোনও নতুন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন থাকতে হবে। অন্যদিকে, তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি হলো এই প্রণালীটি তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তাই উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের মতামত জানাতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল ইরানই নেবে। অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, 'সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কীভাবে এই প্রণালী পরিচালনা করা উচিত, তা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে আলোচনা করছে এবং সেই আলোচনাগুলো একটি ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছে।' তবে কাতারের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য-এর পর দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই আলি খামেনিকে সমাধিত করা হবে।
E-Paper

