Ram Temple donation theft row: 'গাফিলতির জন্য চম্পত রাই...,' রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় বিস্ফোরক ভিএইচপি প্রধান

Ram Temple donation theft row: বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি বলেন, তাঁরা মনে করেন রাম মন্দিরের চুরির ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না চম্পত রাই। তাঁর গাফিলতি ছিল বলে মনে করেন অলোক কুমার।

Published on: Jul 2, 2026, 17:00:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ram Temple donation theft row: অযোধ্যার রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় সেখানকার ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে আগেই অভিযোগ উঠেছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা বিশ্বহিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সহ-সভাপতি চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পরেও পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। বিশেষ তদন্তকারী দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। এই আবহে বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার বললেন, প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁরা মনে করেন রাম মন্দিরের চুরির ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না চম্পত রাই। তাঁরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় বিস্ফোরক ভিএইচপি প্রধান (সৌজন্যে টুইটার)
রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় বিস্ফোরক ভিএইচপি প্রধান (সৌজন্যে টুইটার)

হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতিকে প্রশ্ন করা হয়, 'রাম মন্দিরের চুরির ঘটনা আপনি কীভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করবেন?'

জবাবে তিনি বলেন, 'যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুৰ্ভাগ্যজনক। রাম মন্দিরের ঘটনা গোটা বিশ্বের হিন্দু সমাজকে আঘাত করেছে। এর জন্য কোনও অজুহাত খোঁজার বা সমর্থন করার কোনও প্রশ্নই আসে না। তারা যারাই হোক না কেন, পুলিশ এবং সিট যেন সমস্ত দিক এবং ব্যক্তিদের কভার করে অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে।'

ভিএইচপি-র ভাবমূর্তি কী এতে ধাক্কা খেয়েছে?

এই প্রশ্নের জবাবে আলোক কুমার বলেন, 'এর জন্য আমরা দায়ী নই।' তিনি বলেন, রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর থেকেই ভিএইচপি'র কর্তব্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। মন্দির নির্মাণের সঙ্গে তাঁরা সংগঠনগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। চম্পত রাই ভিএইচপি-র আন্তর্জাতিক সহ-সভাপতি। তাই নৈতিকতার খাতিরে, ভিএইচপি-র পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে। তাঁর কথায়, 'আমরা তাঁকে ওই পদের জন্য [ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদে] মনোনীত করিনি। তিনি ভিএইচপি-র প্রতিনিধিত্ব করেন না। আমরা দায়ী নই। যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক, তবে ভিএইচপি, আরএসএস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জড়ানোর যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে।'

অলোক কুমার আরও বলেন, 'আমি, ভিএইচপি-র সভাপতি হিসেবে একটি চার দফার বিবৃতি জারি করেছি: অবিলম্বে একটি এফআইআর দায়ের করতে হবে, শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্বারা মামলার দ্রুত তদন্ত করতে হবে, একটি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে প্রতিদিন এর বিচার করতে হবে এবং চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে... আপনি চান যে আমি তদন্তের কোনও ফলাফল আসার আগেই আজই তাঁকে (চম্পত রাই) বরখাস্ত করি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ রাই-কে অভিযুক্ত করেনি। অভিযোগগুলো উঠেছে তাঁর গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে।

স্ট্রং রুমের চাবি গাড়ি চালকের কাছে ছিল। কীভাবে প্রাসঙ্গিক?

জবাবে আলোক কুমার বলেন, গাড়ি চালক জেলে গিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

চম্পত রাইয়ের ভূমিকা সম্পর্কে কী বলবেন?

উত্তরে বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি বলেন, তাঁরা মনে করেন রাম মন্দিরের চুরির ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না চম্পত রাই। তাঁর গাফিলতি ছিল বলে মনে করেন অলোক কুমার।

গাফিলতিও একটা অপরাধ। এটা কী বড় রুই-কাতলাদের পার পেয়ে যাওয়ার কোনও চেষ্টা?

যাবে আলোক কুমার বলেন, 'আমি নিশ্চিত যে এমনটা ঘটবে না। এফআইআর-এর মূল অংশে, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে, যা কেবল ধৃত আট জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে সমস্ত ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে আপনার দ্বারা বারবার উল্লেখিত ব্যক্তিটিও রয়েছেন। সুতরাং মাছের আকার যাই হোক না কেন, ছোট হোক বা বড়, কেউই রেহাই পাবে না।'

ভিএইচপি কেন চম্পত রাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি?

তিনি বলেন, ভিএইচপি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে যা বর্তমানে চলছে, এবং তাই আমরা কিছু সময় অপেক্ষা করব। তদন্ত কোনও একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব এবং তারপর এই বিষয়টি বিবেচনা করব। একটি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর ভূমিকা কী ছিল তা সামনে আসুক, এবং তারপর আমরা এটি বিবেচনা করব।' আর এইসব প্রতিক্রিয়া থেকে অনেকেই মনে করছেন রাম মন্দিরের ঘটনায় বিজেপি সহ সঙ্ঘ পরিবারের অন্দরে তোলপাড় চলছে।