Prambanan Temple: ১,০০০ বছরের পুরনো প্রম্বানন মন্দির পরিদর্শন PM মোদীর,ইন্দোনেশিয়ায় সনাতন ঐতিহ্য রক্ষায় সংস্কার ভারতের

PM Modi in Indonesia Visit: শুধু পরিদর্শ নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন প্রম্বানন মন্দিরে পূজার্চনাও করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে 'প্রম্বানন মন্দিরের জন্য ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ' প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। 

Published on: Jul 8, 2026, 13:45:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

PM Modi in Indonesia Visit: বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসাবে বিবেচিত হয় ইন্দোনেশিয়া। যেখানে এমন এক সুপ্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে যা ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বাক্ষ্য বহন করে। প্রায় ১,০০০ বছর পুরনো প্রম্বানন শিব মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। বুধবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো সেই ঐতিহাসিক প্রম্বানন মন্দির পরিদর্শ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্দির দর্শনের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একবার চর্চায় এসেছে বিভিন্ন দেশে ভারত সরকারের উদ্যোগে মন্দির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ঐতিহাসিক মন্দির ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারত।

১,০০০ বছরের পুরনো প্রম্বানন মন্দির পরিদর্শন PM মোদীর (@MEAIndia)
১,০০০ বছরের পুরনো প্রম্বানন মন্দির পরিদর্শন PM মোদীর (@MEAIndia)

শুধু পরিদর্শ নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন প্রম্বানন মন্দিরে পূজার্চনাও করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে 'প্রম্বানন মন্দিরের জন্য ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ' প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটা আমার সৌভাগ্য যে, আমি সর্বদা ভগবান শিবের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাই। আমার জন্ম হয়েছিল ভাদনগরে, যেখানে হাতকেশ্বর মহাদেব বিরাজমান। সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ হলো প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ এবং এটি গুজরাটে অবস্থিত; এর উন্নয়নের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত। আমার নির্বাচনী এলাকা কাশী (বারাণসী)-তে রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মহাদেব, যাঁর আশীর্বাদ আমি সর্বদা পেয়েছি। কেদারনাথ বা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের পুনর্নির্মাণই হোক কিংবা এখানে আমার আগমন-এই সব ক্ষেত্রেই সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু করার সুযোগ আমি পেয়েছি। আমি একে পরম সৌভাগ্য বলে মনে করি।'

তিনি আরও বলেন, 'এখানে আমার সফরের আজ তৃতীয় দিন, কিন্তু এখানকার জীবনযাত্রা, কথাবার্তা ও বাতাসে সংস্কৃতির এক সুবাস পাওয়া যাচ্ছে-এমন এক সুবাস যা আমরা ভারতে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই সুবাসই আমাদের একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এখানকার মানুষ যেভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করেছেন, তার জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। তাই, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সকল শাসককে আমি এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।'

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে ইয়োগিয়াকার্তায় অবস্থিত প্রম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। ভগবান মহাদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির চত্বরটি তার চমৎকার স্থাপত্য এবং জটিল কারুকার্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মন্দিরের দেওয়ালে রামায়ণের কাহিনি খোদাই করা আছে। যা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। শিব মন্দিরের উভয় পাশে ভগবান ব্রহ্মা এবং ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গীকৃত মন্দির রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরকালে মন্দিরটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য এহেন সিদ্ধান্তকে একটি বড় উদ্যোগ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো এই মন্দিরটির সংস্কার করতে সম্মত হন। এই চত্বরে একসময় ২৪০ টিরও বেশি মন্দির ছিল। কিন্তু নিয়মিত ভূমিকম্পের ফলে সেগুলির বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে মন্দিরটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে হিন্দু মাতারাম (মেদাং) সাম্রাজ্যের শাসক রাকাই পিকাতান নির্মাণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মন্দিরটির নির্মাণকাজ আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল।

ভারত সরকার এখন প্রম্বানন মন্দিরের সংরক্ষণ ও সংস্কারে সহায়তা করবে। অনুমান করা হচ্ছে যে, এই উদ্যোগ মন্দিরটির ঐতিহাসিক কাঠামো রক্ষা রক্ষা করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করতেও সাহায্য করবে। ভারত এর আগেও একাধিক দেশে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করেছে। উল্লেখ্য যে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নতুন নয়। ঐতিহাসিকদের মতে, বহু শতাব্দী আগে ভারতীয় বণিক থেকে শুরু করে সাধু ও পণ্ডিতগণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং ঐতিহ্য নিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই আজও ইন্দোনেশিয়ায় রামায়ণ ও মহাভারত মঞ্চস্থ হয় এবং একাধিক জায়গায় হিন্দু সংস্কৃতির ঝলক দেখা যায়।