Russia-Ukraine war: 'রাশিয়ার অর্থনীতি ভারতের...,' যুদ্ধ থামাতে বিস্ফোরক প্রস্তাব জেলেনস্কির

Russia-Ukraine war: বুধবার নিউ ইয়র্কেরাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।

Published on: Sep 23, 2026, 12:30:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Russia-Ukraine war: রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এমনটাই দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে তেল বাণিজ্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Getty Images via AFP)
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Getty Images via AFP)

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'রাশিয়া তার অর্থনীতি ভারত, কখনও তুরস্ক, কখনও চিনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। এবং এটা স্পষ্ট যে, যদি এই দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়, তাহলে রাশিয়াকেও যুদ্ধ বন্ধ করে দিতে হবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘দ্য লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ স্বাক্ষরের পর সেটি আইনে পরিণত করার কয়েক দিন পরেই জেলেনস্কির এই মন্তব্য সামনে এল। এই আইনের ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ক্রেতা—ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছেন ট্রাম্প।

তুরস্কও রুশ জ্বালানির অন্যতম প্রধান ক্রেতা, তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর তারা আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। তুরস্ক মূলত সিপিসি ব্লেন্ড (CPC Blend), কাজাখ কেকেবিসিও (Kazakh KEBCO) এবং উরালস (Urals) গ্রেডের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা।

ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন বলে আশা জেলেনস্কির

জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন যে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এই রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইনটি মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করবে। বুধবার নিউ ইয়র্কেরাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরে তিনি বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন— উভয় দেশই চাইছে শীতকাল আসার আগেই রাশিয়ার এই অর্থহীন যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটুক।' যুদ্ধাবস্থা কাটিয়ে কীভাবে কূটনীতির পথ প্রশস্ত করা যায় এবং উত্তেজনা প্রশমন করা সম্ভব, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে 'প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর' (ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থা) উৎপাদনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ কী?

ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেকের কাছাকাছি জোগান এসেছে মস্কো থেকেই। তবে এই জ্বালানি বাণিজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বারবার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ ছিল গত বছর ভারতীয় আমদানির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করে দেওয়া, যদিও পরবর্তীতে তা কমিয়ে আনা হয়। ভারত বরাবরই জানিয়েছে যে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তগুলো বাজারের সুযোগ-সুবিধা এবং দেশের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হয়।

মস্কোও ক্রমাগত এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে সমর্থন জানিয়ে আসছে। চলতি মাসের শুরুতে ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ জানিয়েছিলেন যে নয়াদিল্লি নিজের দেশের উন্নয়নের স্বার্থে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, মস্কোকে সাহায্য করার জন্য নয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, নয়াদিল্লির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মস্কো সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।