'চিনের সঙ্গে যে ভুল...,' ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন

গত মাসেই ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত করেছে, যা বৃহত্তর ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অংশ।

Published on: Mar 06, 2026 8:45 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে অতীতে চিনের সঙ্গে যে ভুল ওয়াশিংটন০ করেছিল, তা নয়া দিল্লির সঙ্গে হবে না। ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে অবস্থান স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে অবস্থান স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন

বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে আয়োজিত 'রাইসিনা ডায়লগ'-এ ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক এক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, প্রায় দুই দশক আগে চিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নীতিগত ভুল করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা হবে না। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাকে মূল্য দেয়, তবুও তারা নিশ্চিত করবে যে কোনও চুক্তি আমেরিকান নাগরিকদের জন্য উপকারী হবে। তাঁর কথায়, 'ভারতকে বুঝতে হবে যে আমরা ২০ বছর আগে চিনের সঙ্গে যে ভুল করেছিলাম, ভারতের সঙ্গে সেই একই ভুল করব না। আমরা তখন ভেবেছিলাম, বিভিন্ন বাজারে উন্নতির সুযোগ করে দিলে তা সবার জন্য ভাল হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চিন আমাদেরই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।' ল্যান্ডাউ আরও বলেন, 'আমরা নিশ্চিত করব যে আমরা যাই করি না কেন, তা আমাদের জনগণের প্রতি ন্যায্য। কারণ শেষ পর্যন্ত, আমাদের নিজেদের জনগণের প্রতিই জবাবদিহি করতে হবে, ঠিক যেমন ভারত সরকারকে তার জনগণের প্রতি জবাবদিহি করতে হবে।'

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের মতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করতে পারে এই বাণিজ্য চুক্তি। প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণার বিষয়ে আলোচনা করে, ল্যান্ডাউ স্পষ্ট করে বলেন যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মতবাদ বিচ্ছিন্নতা বোঝায় না। তিনি বলেন যে, 'আমেরিকা ফার্স্ট বলতে স্পষ্টতই কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বোঝায় না... কারণ এই লক্ষ্যগুলি অর্জনের একটি উপায় হল অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা।' তিনি আরও বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করে তুলতে চান, তেমনই তিনি আশা করবেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য নেতারাও তাঁদের দেশকে আবার মহান করে তুলতে চাইবেন।' ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মার্কিন কূটনীতিক। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় একটি বিষয় অনস্বীকার্য যে এই শতাব্দীতে আমরা ভারতের উত্থান দেখতে পাব বলে আশা করি। আমার মনে হয় একটি বিষয় অনস্বীকার্য যে এই শতাব্দীতে আমরা ভারতের উত্থান দেখতে পাব বলে আশা করি।'গত মাসেই ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত করেছে, যা বৃহত্তর ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অংশ। এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শুল্ক কমানো। মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে ভারতের রুশ তেল কেনার কারণে আগে যে ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়েছে।