WB SIR Case in Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর আপিলের ৮১ শতাংশই নাম বাদ দেওয়ার দাবি! হতবাক করা তথ্য সুপ্রিম কোর্টে

ট্রাইব্যুনালগুলিতে জমা পড়া মোট ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬২০টি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৩১ লক্ষই ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন। অর্থাৎ, প্রায় ৮১.৩ শতাংশ আপিলই ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছে।

Published on: Aug 26, 2026, 08:12:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

WB SIR Case in Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর পর গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে জমা পড়া মোট ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬২০টি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৩১ লক্ষই ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন। অর্থাৎ, প্রায় ৮১.৩ শতাংশ আপিলই ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা তথ্য অধিকার আইনের জবাবে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রায় ৮১.৩ শতাংশ আপিলই ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছে।
প্রায় ৮১.৩ শতাংশ আপিলই ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছে।

কংগ্রেস বিধায়ক ঈশা খান চৌধুরীকে দেওয়া তথ্য অধিকার আইনের জবাব অনুযায়ী, ৭ অগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন আপিল ট্রাইব্যুনালে মোট ৩৮,১০,৬২০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৭ লক্ষ আবেদন করেছেন সেইসব ভোটার, যাঁরা নিজেদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। বাকি বিপুল সংখ্যক আবেদন করেছেন ব্যক্তি বা বিভিন্ন পক্ষ, যাঁরা ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করছেন।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর আপিলগুলির বিস্তারিত হিসাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিলকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, নাম বাদ যাওয়ার সঙ্গে তাঁদের ভোটাধিকার সরাসরি এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

আদালত আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগেই আপিল নিষ্পত্তির গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘সংসদ নির্বাচন আসার আগেই সবকিছু মিটিয়ে ফেলতে হবে।’

এসআইআর-এর পর গঠিত এই বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনালগুলিতে হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিরা রয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি করতেই এই ট্রাইব্যুনালগুলি তৈরি করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৮২,৭৮২টি আপিলের ফল নথিভুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৭৫,৪৪৩টি আবেদনের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর মাত্র ৭,৩৩৯টি ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের ৯১ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভোটার বাদ যাওয়ার আপিলগুলিকে আগে শুনানির দাবি তুলেছেন আইনজীবীরা। প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে বলেন, বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও দ্রুত নিষ্পত্তির পক্ষে সওয়াল করেন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবি জানান।

আদালত নির্বাচন কমিশনকে জেলা এবং আপিলের ধরন অনুযায়ী বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কত আবেদন এখনও বকেয়া, তার মধ্যে কতগুলি বাদ পড়া ভোটারদের এবং কতগুলি নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে করা হয়েছে, কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কী ধরনের রায় দেওয়া হয়েছে—সব তথ্য চেয়েছে আদালত।

এদিকে শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওই কেন্দ্রগুলিতে ভোটার নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা বিজেপির জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, শুধু ওই কেন্দ্রগুলির মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। গোটা পশ্চিমবঙ্গের আপিল নিষ্পত্তির পরিস্থিতিই খতিয়ে দেখবে আদালত।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More