WB's Man Murdered in Israel: ইজরায়েলে খুন উত্তরবঙ্গের যুবক, জেরুজালেমে দেখাশোনা করতেন বৃদ্ধ দম্পতির, ধৃত দম্পতির নাতি

অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজীবের ওপর হামলা করা হয়। তিনি একাধিক আঘাত পান। হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাঁকে। ঘটনার তদন্তে এগিয়েছে ইজরায়েলি পুলিশ। অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে অ্যাভিয়র জাকেনকে।

Published on: Aug 20, 2026, 09:01:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইজরায়েলের জেরুজালেমে কর্মরত ভারতীয় কেয়ারগিভার রাজীব আচার্যের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত ২৩ জুলাই এক বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ভয়াবহ হামলার শিকার হন তিনি। পরে গুরুতর রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। তেল আভিভে ভারতীয় দূতাবাস তাঁর পরিবারকে এই তথ্য জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজীব উত্তরবঙ্গের কালিম্পঙের বাসিন্দা ছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, জেরুজালেমে রাজীব এক বৃদ্ধ দম্পতির দেখাশোনা করতেন।

ইজরায়েলের জেরুজালেমে কর্মরত ভারতীয় কেয়ারগিভার রাজীব আচার্যকে খুন করা হয়েছে
ইজরায়েলের জেরুজালেমে কর্মরত ভারতীয় কেয়ারগিভার রাজীব আচার্যকে খুন করা হয়েছে

অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজীবের ওপর হামলা করা হয়। তিনি একাধিক আঘাত পান। হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাঁকে। ঘটনার তদন্তে এগিয়েছে ইজরায়েলি পুলিশ। অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে অ্যাভিয়র জাকেনকে। ওই বৃদ্ধ দম্পতির নাতি এই ধৃত। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।

তবে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন। অভিযুক্তেরও আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে। ঘটনার পর ইজরায়েলে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে কেয়ারগিভারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ তাঁদের অনেকেই বৃদ্ধ বা অসুস্থ মানুষের বাড়িতেই থাকেন এবং কাজ করেন। ফলে কর্মক্ষেত্রই অনেক সময় তাঁদের বাসস্থান হয়ে ওঠে। নিজের দেশ ও পরিচিত মানুষের কাছ থেকেও তাঁরা দূরে থাকেন।

১৮ অগস্ট ভারতীয় কমিউনিটি কর্মীদের পক্ষ থেকে একটি আবেদন জানানো হয়। সেখানে রাজীব আচার্যের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার, আর্থিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্যও ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, রাজীব পরিবারের জন্য উপার্জনের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে ইজরায়েলে গিয়েছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের কাছে প্রিয়জনকে হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেই পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎও।

কমিউনিটি প্রতিনিধিরা চাইছেন, ভারতীয় দূতাবাস যেন পুরো মামলাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। পরিবারকে মামলার অগ্রগতি জানায়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনি, কনস্যুলার এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করে। রাজীবের মৃত্যু বিদেশি কেয়ারগিভারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কমিউনিটির দাবি, হুমকি, নির্যাতন বা হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকা দরকার। যাতে কোনও কর্মী ভয় না পেয়ে সাহায্য চাইতে পারেন।

নিয়োগকর্তা, কেয়ারগিভিং এজেন্সি এবং যেসব পরিবার বিদেশি কর্মীদের পরিষেবা নেয়, তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুরুতর হুমকি বা সহিংসতার ঘটনা দ্রুত পুলিশকে জানানোর দাবি উঠেছে। ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে শ্রমিক পাঠানোর জন্য ২০২৩ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে নির্মাণ ও কেয়ারগিভিং ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্মীদের জন্য নিয়মিত ও নিরাপদ পথে ইজরায়েলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় কর্মীদের শ্রমিক অধিকার, থাকার ব্যবস্থা, চিকিৎসা বিমা এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার কথা। ইজরায়েলি আইনের আওতায় তাঁদের মজুরি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এই সরকারি কাঠামোর মাধ্যমে ৬,৭৭৪ জন ভারতীয় ইজরায়েলে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৬,৭৩০ জন নির্মাণকর্মী এবং ৪৪ জন কেয়ারগিভার। এর বাইরে প্রায় ৭,০০০ ভারতীয় কেয়ারগিভার বেসরকারি মাধ্যমে ইজরায়েলে কাজ করছিলেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরের সময় দুই দেশ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়। আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫০ হাজার ভারতীয় কর্মী ইজরায়েলে যেতে পারেন বলেও আলোচনা হয়। এই পরিস্থিতিতে রাজীব আচার্যের মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। বিদেশে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আরও জরুরি। রাজীবের পরিবার যেমন ন্যায়বিচার চায়, তেমনই ভারতীয় কমিউনিটির দাবি, ভবিষ্যতে আর কোনও কর্মী যেন একই ধরনের বিপদের মুখে না পড়েন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More