NITI Aayog on Job Market: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিতে চাকরি পাওয়া মুশকিল! সংস্কারের সুপারিশ নীতি আয়োগের

NITI Aayog on Job Market: প্রতিবেদনে সাধারণ ডিগ্রি কোর্সের প্রতি পড়ুয়াদের অত্যধিক ঝোঁক এবং এগুলোর সঙ্গে কর্মসংস্থানের দুর্বল সংযোগের বিষয়টিও চিহ্নিত করা হয়েছে।

Published on: Aug 26, 2026, 14:33:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

NITI Aayog on Job Market: নীতি আয়োগের সম্প্রতি প্রকাশিত 'রিইমাজিনিং স্কিলিং ফর বিকশিত ভারত ২০৪৭' (Reimagining Skilling for Viksit Bharat 2047) প্রতিবেদনে ভারতের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদার মধ্যে একটি অসামঞ্জস্য বা বিচ্ছিন্নতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিতে চাকরি পাওয়া মুশকিল! সংস্কারের সুপারিশ নীতি আয়োগের
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিতে চাকরি পাওয়া মুশকিল! সংস্কারের সুপারিশ নীতি আয়োগের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম সেকেলে হয়ে পড়েছে এবং শিল্পের (industry) বিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে অর্জিত ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট সব সময় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারছে না। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪-২৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতক তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদে নিযুক্ত আছেন। প্রতিবেদনে শিক্ষিতদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের হারও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, জাতীয় বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ হলেও, মোট স্নাতকদের মধ্যে ১৩ শতাংশ এবং মহিলা স্নাতকদের মধ্যে ২০.৪ শতাংশ বেকার।

বিএ, বিএসসি ও বিকম কোর্সে ২ কোটিরও বেশি পড়ুয়ার ভর্তি

প্রতিবেদনে সাধারণ ডিগ্রি কোর্সের প্রতি পড়ুয়াদের অত্যধিক ঝোঁক এবং এগুলোর সঙ্গে কর্মসংস্থানের দুর্বল সংযোগের বিষয়টিও চিহ্নিত করা হয়েছে। স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া ৩.৪ কোটি পড়ুয়ার মধ্যে ১.১৩ কোটি পড়ুয়া শুধুমাত্র বিএ কোর্সে ভর্তি হয়েছে। বিএ, বিএসসি ও বিকম-এই তিনটি কোর্সে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। প্রতিবেদন অনুসারে, অনেক পড়ুয়া মূলত সরকারি চাকরির যোগ্যতামান বজায় রাখার জন্যই এসব ডিগ্রি অর্জন করে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে মাত্র ৫৫ হাজার সরকারি পদের জন্য ১.৮৬ কোটি আবেদন জমা পড়েছিল।

নীতি আয়োগ জানিয়েছে, ডিগ্রি কলেজ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ITI) এবং পলিটেকনিকগুলোর মধ্যে চালু থাকা এই কাঠামোগত অসামঞ্জস্য উচ্চশিক্ষাকে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এক্ষেত্রে শিল্পখাতের অধিকতর অংশগ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP মডেলের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান-কেন্দ্রিক শিক্ষার সংযোজন এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে যুগোপযোগী, প্রাসঙ্গিক ও প্রকৃত কর্মসংস্থানের ফলাফলের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

নীতি আয়োগের সুপারিশ

উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে নীতি আয়োগ। প্রতিবেদন অনুসারে, গতানুগতিক ডিগ্রি কোর্সের পরিবর্তে বিশেষ ও কর্মসংস্থান-কেন্দ্রিক কোর্সের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে বিএ, বিএসসি ও বিকম-এর মতো যেসব কোর্সে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রয়োজন। এতে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম-যেমন বিএ হসপিটালিটি, বিকম অ্যানালিটিক্স এবং বিএসসি অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কর্ম-সমন্বিত এবং শিক্ষানবিশ-ভিত্তিক ডিগ্রি কর্মসূচির (AEDP) ব্যাপক সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, যদিও এইডিপি-এর মতো কাঠামো চালু করা হয়েছে, তবুও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশাল পরিসরের তুলনায় এগুলোর প্রচলন এখনও সীমিত। ফলে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা-সহ ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে মডুলার, খণ্ডকালীন, হাইব্রিড এবং 'উপার্জন ও শিক্ষা' মডেল-সহ আরও নমনীয় শিক্ষাপদ্ধতি প্রবর্তনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো পড়ুয়াদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের জন্য অধিকাংশ সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিল্পখাতের আরও সুসংহত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) মডেল এবং বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার মাধ্যমে শিল্প-চালিত দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; যার লক্ষ্য হল এমন সব কর্মসূচি চালু করা যা ফলাফল-ভিত্তিক, শিল্প-সমন্বিত এবং গঠনগতভাবে মডুলার।'