2012 EC Controversy: 'আমি আত্মহত্যা করব!' ২০১২-র UP ভোটে বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনারকে কী বলেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী?
2012 EC Controversy: বইতে এসওয়াই কুরেশি দাবি করেন, ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের কয়েকজন মন্ত্রী। তখন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশিকে ডেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং বলেন, 'আপনারা যদি এমনটা ভাবেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।'
2012 EC Controversy: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই চর্চায় উঠে এল প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশির লেখা বই 'ইন্ডিয়া অ্যান্ড আই: এ হান্ড্রেড মেমোরিজ, নট এ মেমোয়ার।' যেখানে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং সম্পর্কে বেশকিছু আবেগঘন মুহূর্তের কথা তুলে ধরেছেন লেখক।

বইতে এসওয়াই কুরেশি দাবি করেন, ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের কয়েকজন মন্ত্রী। তখন নির্বাচন কমিশনার কুরেশিকে ডেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং বলেন, 'আপনারা যদি এমনটা ভাবেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।' মনমোহন আরও বলেন, 'নির্বাচন কমিশন শুধু ভারতের গর্বই নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের আত্মা এবং যদি আমরা তা হারাই, তবে আমরা সবকিছুই হারাব।' এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সলমন খুরশিদ মুসলিমদের জন্য চাকরিতে সংরক্ষণ ৪.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সরব হয় বিজেপি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর কোনও নতুন প্রকল্প বা সংরক্ষণ ঘোষণা করা যায় না-এই যুক্তি দিয়ে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে তারা।
নির্বাচন কমিশনও এটিকে আদর্শ আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সলমন খুরশিদকে তিরস্কার করে। এই পদক্ষেপের পর কংগ্রেসের একাধিক নেতা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়। কমিশনকে 'অহংকারী' ও 'স্বেচ্ছাচারী' বলে আক্রমণ শানায়। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হরিশ খারের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা উচিত। এর পরের দিনই ঘটে সেই নাটকীয় ঘটনা। বইতে এসওয়াই কুরেশি লিখেছেন, 'পরদিন আমার আরএএক্স ফোনটি বেজে ওঠে। ওপার থেকে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনার সঙ্গে জরুরি কথা বলতে চান।' পরক্ষণেই ড. মনমোহন সিং লাইনে আসেন। ওঁর গলায় একটা গভীর উদ্বেগ ছিল। উনি বললেন,‘কুরেশিজি, আমি কী আপনার সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে পারি?’ ওঁর কথা বলার ধরণে মনে হচ্ছিল উনি নিজেই হয়তো আমার কাছে চলে আসবেন। আমি বললাম,‘স্যার, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, আপনি যখনই বলবেন আমি তখনই আসব।' এরপর ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়।'
সেই বৈঠকের বিবরণ দিতে গিয়ে কুরেশি লিখেছেন, ড. মনমোহন সিংকে অত্যন্ত বিচলিত দেখাচ্ছিল। কুরেশির কথায়, 'প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে দেখি খোদ প্রধানমন্ত্রী দরজার কাছে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রী রেগে গিয়ে বলেন, 'আপনার বক্তব্য, হরিশ আমাকে বলেছেন। আপনি যদি তাই মনে করেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।' আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। যদিও আমার বক্তব্য ছিল কিছু মন্ত্রীর আচরণ নিয়ে, তাঁকে নিয়ে নয়। আমি যে তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করছি, এই ভাবনাটা তার জন্য অসহ্য ছিল। তিনি এক মুহূর্তও তা সহ্য করতে পারেননি। তাঁকে শান্ত করতে আমার বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগেছিল। শান্ত হওয়ার পর ড. মনমোহন সিং বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র জানতাম না। যদি আগে জানতাম, তবে ওদের কঠোর ভাষায় শাসন করতাম। ভবিষ্যতে আপনার কিছু বলার থাকলে, সরাসরি ফোন তুলে আমাকে জানাবেন।' তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের যাবতীয় আক্রমণ বন্ধ হয়।
ড. মনমোহন সিংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তিও বইয়ে তুলে ধরেছেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার। মনমোহন সিং বলেছিলেন, 'নির্বাচন কমিশন শুধু ভারতের গর্বই নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের আত্মা এবং যদি আমরা তা হারাই, তবে আমরা সবকিছুই হারাব।' প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে কুরেশি আরও বলেন, 'আমার জীবনে আমি অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, কিন্তু এমন মানুষ খুব কমই ছিলেন যাঁরা ক্ষমতাকে এত সহজে গ্রহণ করতেন, কিংবা এর ভার এত গভীরভাবে অনুভব করতে পারতেন। এমন একটি পেশা, যেখানে দৃঢ় মানসিকতাকেই পুরস্কৃত করা হয়, সেখানে ডঃ মনমোহন সিং ক্ষমতা প্রয়োগে এক বিরল সংবেদনশীলতার জন্য অনন্য হয়ে থাকবেন।'
E-Paper

