ECINet App: গোয়ায় ৯৭ জন বৈধ ভোটারের নাম বাদ! নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমকে বাতিলের দাবি থারুরের

ECINet App: বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন যে, ভারতীয় নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই কর্মকাণ্ড অমার্জনীয়।

Published on: Sep 24, 2026, 23:44:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ECINet App: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে অন্তর্ভুক্তি, ফর্ম বদল এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটারের নাম পুনর্বহালের আপিল—নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে খোদ কমিশনের অন্দরেই তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সামনে এসেছে যে, গত দশ মাসেরও কম সময়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে লিখিতভাবে নিজেদের আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সফটওয়্যার ‘ইসিআইনেট’ (ECINet) নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এই সফটওয়্যার অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমকে বাতিলের দাবি শশী থারুরের (Jitender Gupta)
নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমকে বাতিলের দাবি শশী থারুরের (Jitender Gupta)

জাতীয় স্তরে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া তিন কমিশনারের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, সম্প্রতি এর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসআইআর নির্বাচন কমিশন গত বছর শুরু করে—ভোটাররা ইসিআইনেট-এর মাধ্যমে ফর্ম ও নথিপত্র জমা দেন এবং পরবর্তীতে আধিকারিকরা সেই নথি যাচাই ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিশন ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপটি চালু করে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় এর একটি বেটা সংস্করণ পরীক্ষা করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচনের রিয়েল-টাইম ফল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী আধিকারিকদের অভ্যন্তরীণ কাজের জন্যও এই ওয়েবসাইট ও অ্যাপটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

বৃহস্পতিবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, গোয়ায় বুথ স্তরের নির্বাচনী আধিকারিকদের দ্বারা সম্পূর্ণ যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও অন্তত ৯৭ জন বৈধ ভোটারের নাম (Goa valid voters) শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। এই ঘটনায় কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার সিস্টেমকে দায়ী করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে এবং শাসক শিবিরকে একহাত নিয়েছে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির আইটি বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় ‘ইসিআইনেট’ সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। স্থানীয় নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-রা আগের ডিলিশন বা নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলি বদলাতে না পারার ফলে ওই ৯৭ জন বৈধ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখতে পারেননি। এমনকী গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় গোয়েল ত্রুটি সংশোধনের রোলব্যাক সুবিধা চেয়ে সাত দিনে পরপর আটটি ইমেল পাঠালেও এবং কমিশনের উপ-নির্বাচন কমিশনার আইটি বিভাগকে তা ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সেই প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গোয়ার সিইও সঞ্জয় গোয়েল জানান যে তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই এবং তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন যে, ভারতীয় নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই কর্মকাণ্ড অমার্জনীয়। তিনি শুধু পদত্যাগই নয়, অবিলম্বে এই বিপর্যয়কর সফটওয়্যার বাতিল করে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। এর আগে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দশ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে যে খবর প্রকাশ্যে এসেছিল, তা এই বিতর্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে সমস্ত কমিশনারদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।