Delhi Professor Murder: ঘড়ি, ১০০ শার্ট! দিল্লির অধ্যাপিকা খুনে অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ি থেকে কী কী পেল পুলিশ?

Delhi Professor Murder: তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, গত ১ জুন বাড়ি ভাড়া দেওয়ার নাম করে অভিযুক্ত ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে ওই অধ্যাপিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দেবস্মিতা পাল জানান যে, ৩ জুন তিনি বাড়িতেই থাকবেন। পুলিশের অনুমান, এই তথ্য পাওয়ার পরই অভিযুক্ত খুনের চূড়ান্ত ছক কষে।

Published on: Jun 9, 2026, 23:41:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Delhi Professor Murder: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকার নৃশংস খুনের ঘটনার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রহস্যভেদ করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় রবিবার পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানের এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল ওই অধ্যাপিকাকে। এরপর থেকে দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনের ঘটনায় তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। মিলে যাচ্ছে একাধিক সূত্র এবং প্রমাণ।

দিল্লির অধ্যাপিকা খুনে অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ি থেকে কী কী পেল পুলিশ? (সৌজন্যে টুইটার)
দিল্লির অধ্যাপিকা খুনে অভিযুক্ত দম্পতির বাড়ি থেকে কী কী পেল পুলিশ? (সৌজন্যে টুইটার)

নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। বুধবার তাঁর ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁকে। তদন্তে নেমে ৪২ বছর বয়সি মূল অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে দেবস্মিতার গাড়ির নম্বর প্লেট এবং তাঁর বাসভবনের একাধিক ছবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি ও তার স্ত্রী মিলেই অধ্যাপিকাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, বর্ধমানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি ছিল দেবস্মিতার। সেখানেই অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটে হিসাবে থাকতেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছিলেন তাঁরা। ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেবস্মিতা তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ। ধৃত ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি এবং মার্চ মাসে পূর্ব দিল্লির ওই এলাকায় ‘রেকি’ করেছিলেন এবং বসুন্ধরা এনক্লেভের আবাসনটির বাইরে থেকে বেশ কিছু ছবিও তুলেছিলেন।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, গত ১ জুন বাড়ি ভাড়া দেওয়ার নাম করে অভিযুক্ত ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে ৪৯ বছর বয়সি ওই অধ্যাপিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দেবস্মিতা জানান যে, ৩ জুন তিনি বাড়িতেই থাকবেন। পুলিশের অনুমান, এই তথ্য পাওয়ার পরই অভিযুক্ত খুনের চূড়ান্ত ছক কষে। তদন্তকারীদের সূত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বর্ধমানে একটি স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান রয়েছে এবং ব্যবসার খাতিরে তিনি প্রায়শই দিল্লিতে-বিশেষ করে করোল বাগ বাজারে যাতায়াত করতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাঝেমধ্যেই দেবস্মিতার বাড়িতে যেতন এবং কখনও কখনও বর্ধমান থেকে আম নিয়ে আসতেন। এর ফলে দেবস্মিতার বাড়ির ভেতরে এবং আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানান, দেবস্মিতা তাকে বর্ধমানের বাড়িটি খালি করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং তাকে সম্ভবত জুন মাসের একটি ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের লোগো সংবলিত বেশ কিছু জাল পরিচয়পত্র ও ব্যাজ এবং রেলের টিকিট পরীক্ষকের একটি জাল ব্যাজ উদ্ধার করেছে।

এছাড়াও তদন্তকারীরা উদ্ধার করেছেন আসল নোটের বান্ডিলের মতো দেখতে বেশ কিছু বান্ডিল, যেগুলোর ওপর ও নিচে আসল নোট এবং মাঝখানে সাধারণ কাগজ ভরা ছিল-প্রতারণার কাজে সাধারণত এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একাধিক ঘড়ি এবং ১০০টিরও বেশি শার্ট উদ্ধার হয়েছে। এই সমস্ত জিনিসের উৎস সম্পর্কে ওই ব্যক্তি কোনও সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায়, দিল্লি পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি চুরি বা প্রতারণার মতো অন্য কোনও অপরাধমূলক চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ পুলিশ কমিশনার (আইন ও শৃঙ্খলা) দেবেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব জানান, ২০০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পর ডিসিপি রাজীব কুমারের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি দল ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্তরা অত্যন্ত সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর, খুনের পর এবং ট্রেনে ওঠার আগে—এই পুরো প্রক্রিয়ায় দম্পতি মোট তিনবার পোশাক পরিবর্তন করে। খুনের পর তারা ট্যাক্সি চড়ে আনন্দ বিহার স্টেশনে যায়, সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট কাটানোর পর একটি অটো নিয়ে নতুন দিল্লি স্টেশনে পৌঁছায় এবং সেখানে গিয়ে আবার পোশাক বদল করে।

নাবালক ছেলেকে নিয়ে বর্ধমান স্টেশনে নামার পরও তারা বাড়ি ফেরার সোজা রাস্তা এড়িয়ে চলে এবং স্টেশনের পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে বাড়ি ফেরে। পুলিশ জানায়, দিল্লিতে যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্কুটারটি বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে একটি বাজারে পার্ক করে রেখে গিয়েছিল। প্রায় ২৪ ঘণ্টার তল্লাশির পর তদন্তকারীরা একটি বাড়ির সামনে থেকে স্কুটারটি উদ্ধার করেন। পুলিশের সন্দেহ, এই অপরাধের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই তারা দেবস্মিতার মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়েছিল। তবে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে এই দম্পতির বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছেন তদন্তকারীরা। স্বামী দাবি করেছে যে অস্ত্রটি বর্ধমান থেকে আনা হয়েছিল, অন্যদিকে স্ত্রীর দাবি সেটি দিল্লি থেকে কেনা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ধমানে ফেরার পর তারা এমন ভাব করছিল যেন কিছুই হয়নি এবং নিজেদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছিল।