Lohagad Fort death case: সিয়ার নিরাপত্তা, ‘বসে পড়ার’ সংকেত! কেতন হত্যাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণে কী পেল পুলিশ?

Lohagad Fort death case: কেতন আগরওয়ালের উচ্চতা ও ওজনের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একটি ম্যানিকুইন ব্যবহার করে লোহাগড় দুর্গে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণের সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ধৃত বাগদত্তা সিয়া গোয়েল।

Published on: Jun 29, 2026, 12:50:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Lohagad Fort death case: পুণের ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়াল খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। খুনের দশদিনের মাথায় রবিবার অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া গোয়েলকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। কীভাবে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা হয়েছে, কে কোন অবস্থানে ছিল-এই সমস্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।

কেতন হত্যাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণে কী পেল পুলিশ? (ANI Video Grab)
কেতন হত্যাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণে কী পেল পুলিশ? (ANI Video Grab)

রবিবার ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুনে গ্রামীণ পুলিশ। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক হাড়হিম করা তথ্য। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২৫ বছর বয়সি কেতন আগরওয়ালকে পুণের ঐতিহাসিক দুর্গের পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর মধ্যে একটি ‘বিশেষ সংকেত’ বা ইশারা আদান-প্রদান হয়েছিল। কেতন আগরওয়ালকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে দিয়ে নির্মমভাবে খুন করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২০ বছর বয়সি সিয়া গোয়েল এবং ২২ বছরের চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর আগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুণে গ্রামীণ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, 'অভিযুক্তকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুরো সিকোয়েন্স পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্গে ওঠার রুট, ঘটনার সময় কে কোন পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল, তার সবটাই পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হয়েছে।' পুলিশ জানিয়েছে, কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তের পরিস্থিতি এবং এই জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের প্রকৃত ভূমিকা নিশ্চিত করতেই এই ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেমিক চেতন চৌধুরীকেও আলাদাভাবে দুর্গে নিয়ে গিয়ে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করবে পুলিশ।

‘বসে পড়ার’ সংকেত!

কেতন আগরওয়ালের উচ্চতা ও ওজনের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একটি ম্যানিকুইন ব্যবহার করে লোহাগড় দুর্গে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণের সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ধৃত বাগদত্তা সিয়া গোয়েল। সিয়া পুলিশকে জানিয়েছে, তার হবু স্বামী কেতনকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার জন্য প্রেমিক চেতনের উদ্দেশ্যে সে নিজেই ‘বসে পড়ার’ একটি বিশেষ সংকেত দিয়েছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিয়া কোনও এক জায়গায় বসে পড়ে সংকেত দেবে এবং তা দেখামাত্রই পেছন থেকে এসে অসতর্ক কেতনকে অতল খাদে ঠেলে ফেলে দেবে চেতন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই সংকেত দেওয়ার জন্য জল খাওয়ার নাটক করা অথবা জুতোর ফিতে বাঁধার বাহানা করার ব্লুপ্রিন্ট আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিল এই দুই অভিযুক্ত।

‘নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতেই বসে পড়ার ছক!

তদন্তে আরও একটি বিষয় পুলিশকে অবাক করেছে; আর তা হলো—সিয়ার বসে পড়ার এই সিদ্ধান্তটি কেবল একটি ইশারা ছিল না, বরং তার নিজের জীবন বাঁচানোর একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত চাল ছিল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চেতন যখন পেছন থেকে কেতনকে মরণ-ধাক্কা দেবে, তখন অবধারিতভাবে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে কেতন নিজেকে বাঁচাতে সিয়াকে খপ করে ধরে ফেলার চেষ্টা করতে পারত। তেমনটা হলে সিয়া নিজেও কেতনের সঙ্গে ওই গভীর খাদে পড়ে মারা যেত। সেই ভয় থেকেই সিয়াকে কেতনের নাগালের বাইরে রাখতে এবং তার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘বসে পড়ার’ ভয়ঙ্কর ছকটি কষেছিল তারা।

৯০ কিমি স্কুটার যাত্রা!

লোহাগড় দুর্গ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে মূল ষড়যন্ত্রকারী ও সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর চরম সতর্কতার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ হাতে পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন,পুণে থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার জন্য চেতন কোনও গাড়ি ব্যবহার না করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটি সাধারণ স্কুটার বেছে নিয়েছিল। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'গত ১৮ জুন সকালে চেতন লোহাগড় দুর্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সে খুব ভালো করেই জানত যে, ফোর-হুইলার বা গাড়ি নিয়ে গেলে হাইওয়ের টোল প্লাজার সিসিটিভি-তে তার গতিবিধি এবং গাড়ির নম্বর প্লেট সহজেই ধরা পড়ে যাবে। সেই ভয় থেকেই সে স্কুটারে চেপে এতটা পথ পাড়ি দেয়। ইতিমধ্যেই আমরা সেই স্কুটারটি বাজেয়াপ্ত করেছি।' পুলিশ আরও জানিয়েছে, পাহাড়ের চূড়া থেকে কেতন আগরওয়ালকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়ার পর, ওই একই স্কুটারে চেপেই পুণেতে ফিরে আসে চেতন।

হুডি এবং ব্ল্যাক টি-শার্ট

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, খুনের আগে ও পরে ঘটনাস্থলে নিজের উপস্থিতি পুরোপুরি গোপন করতে লোহাগড় দুর্গে পৌঁছেই নিজের চেহারার ভোল বদলে ফেলেছিল চেতন। পুলিশি সূত্র অনুযায়ী, দুর্গে ওঠার সময় চেতনের গায়ে একটি ঢাকা দেওয়া ‘হুডি’ ছিল। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর পর সে হুডিটি খুলে ফেলে এবং একটি কালো রঙের সাধারণ টি-শার্ট পরে ঘুরে বেড়াতে থাকে। এরপর কেতনকে অতল খাদে ঠেলে দেওয়ার পর, দুর্গ থেকে নামার সময় সে আবারও সেই হুডিটি গায়ে চাপিয়ে নেয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরী নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এমনকি ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে যে, কেতনকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নির্জন জায়গা খুঁজতে এবং তার আগে একপ্রস্থ ‘খুনের মহড়া’ করতে তারা আগেই একবার ওই দুর্গে রেকি করতে গিয়েছিল।