'প্রতিষ্ঠানের অবমাননা বরদাস্ত নয়!' NCERT-র পাঠ্যবই নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

শুধু এনসিইআরটি-র পাঠ্যবই বলেই নয়, সম্প্রতি আইন মন্ত্রক জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির দফতরেই ৭৫২৮ অভিযোগ জমা পড়েছে।

Published on: Feb 25, 2026 11:01 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’র উল্লেখ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এটিকে বিচারবিভাগের ওপর একটি ‘পরিকল্পিত এবং সুগভীর’ আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করার এই চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। তিনি এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন হাইকোর্টের বিচারপতিদের কাছ থেকেও তিনি এই বিষয়ে অসংখ্য ফোন এবং মেসেজ পাচ্ছেন, যেখানে তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

NCERT-র পাঠ্যবই নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
NCERT-র পাঠ্যবই নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

এদিন সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ের অবতারণা করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিংভি। সিব্বল আদালতে জানান, স্কুলের পাঠ্যবইতে বিচারবিভাগকে এভাবে কালিমালিপ্ত করা অত্যন্ত ‘উদ্বেগজনক’ এবং ‘কলঙ্কজনক’। তাঁর কথায়, 'আমরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ সদস্য হিসেবে খুবই বিচলিত যে স্কুলের বইয়ে এভাবে বিচারবিভাগকে তুলে ধরা হয়েছে।' বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণের আর্জিও জানান তাঁরা। আইনজীবীদের যুক্তির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, 'দয়া করে কয়েকদিন অপেক্ষা করুন। বার এবং বেঞ্চ, উভয় পক্ষই এতে বিরক্ত। হাইকোর্টের সকল বিচারকই উদ্বিগ। আমি জানি, কীভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে। আমি এই বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিবেচনা করব। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।'

মঙ্গলবার এক্স পোস্টে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল বিষয়টি প্রথম আদালতের নজরে আনেন। তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচার বিভাগীয় দুর্নীতি শেখাচ্ছে। মন্ত্রী, সরকারি কর্মচারী, তদন্তকারী সংস্থা সহ রাজনীতিবিদদের ব্যাপক দুর্নীতির কী হবে? এটি একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।’ ইতিহাস বিকৃতি থেকে ইতিহাসের কিছু অংশ মুছে ফেলা নিয়ে এর আগেও অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে এনসিইআরটি। এবার সরাসরি বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ে টিপ্পনি নিয়ে সমালোচনার মুখে তারা। তবে শুধু এনসিইআরটি-র পাঠ্যবই বলেই নয়, সম্প্রতি আইন মন্ত্রক জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির দফতরেই ৭৫২৮ অভিযোগ জমা পড়েছে। বুধবার প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমি সচেতন এবং আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। এটা খুব সুপরিকল্পিত এবং গভীরভাবে প্রোথিত একটি পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে…আমরা আর কিছু বলতে চাই না।'

আরেক প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, মনে হচ্ছে যেন একমাত্র বিচারবিভাগকেই নিশানা করা হয়েছে। রাজনীতিক, মন্ত্রী বা আমলাদের দুর্নীতির কথা বইয়ে নেই। তাঁর বক্তব্য, এতে যেন বোঝানো হচ্ছে দুর্নীতি শুধু বিচারবিভাগেই আছে। অন্য কোথাও নেই। তিনি আরও বলেন, 'এই বাছাই করে দেখানোই সমস্যা। অন্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি আছে, কিন্তু শুধু বিচারবিভাগকে আলাদা করে দেখানো হয়েছে।' এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বইয়ের কাঠামোয় সংবিধানের মূল চেতনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততার প্রতিফলন নেই। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি সরকার ও বিচারবিভাগের মধ্যে নতুন এক সংঘাতের কারণ হতে পারে। তবে যে স্তরেই বিষয়টি পৌঁছাক না কেন, আদালত ব্যবস্থা নেবে। তাঁর কথায়, 'এটা বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আঘাত বলেই মনে হচ্ছে। আমরা বিচার প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করতে দেব না।'

এনসিইআরটি-র পাঠ্যবই

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞানের বইতে বিচার বিভাগের ভূমিকা বর্ণনার অধ্যায়ে জুডিশিয়াল সিস্টেমের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, রায়দানে দেরি হওয়া-সহ একাধিক বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারকের অভাব এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়া-সহ বিচার কাঠামোয় একাধিক বাধার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতে জমে থাকা বিপুল মামলার সংখ্যার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ওই চ্যাপ্টারে। বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি প্রসঙ্গ নিয়ে মূলত আপত্তি তুলেছেন বিচার বিভাগের সদস্যরা। এছাড়া ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মামলার বিপুল বোঝাকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন আদালতে কত মামলার এখনও ফয়সালা হয়নি, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে বইতে। তালিকা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কমবেশি ৮১,০০০ মামলা, হাইকোর্টগুলিতে সম্মিলিতভাবে ৬২.৪ লক্ষ মামলা এবং জেলা ও নিম্ন আদালতগুলোতে ৪.৭ কোটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।