Dhruv Rathee: ‘আমাকে অপহরণ...,’ মুক্তি পেতেই ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে তোপ ধ্রুব রাঠীর

Dhruv Rathee: ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে, গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। গভীর রাতে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।

Published on: Oct 11, 2026, 16:07:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Dhruv Rathee: শনিবার সকালে আচমকা আটক এবং দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে মুক্তি পান জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী (Dhruv Rathee)। রবিবার সকালে গুরুগ্রামের নিজের বাড়িতে বসেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। কীভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা জানাতে গিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন ধ্রুব রাঠী। তাঁর দাবি, এটি কোনও আইনি আটক বা গ্রেফতারির ঘটনা নয়, বরং সরাসরি তাঁকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।

মুক্তি পেতেই ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে তোপ ধ্রুব রাঠীর (সৌজন্যে এক্স )
মুক্তি পেতেই ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে তোপ ধ্রুব রাঠীর (সৌজন্যে এক্স )

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে (Cockroach Janta Party) যোগ দিতে যাওয়ার পথে, গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। গভীর রাতে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে। শনিবার সকাল সকাল ৮টা নাগাদ গুরুগ্রামে সেক্টর ৫৬-এ, তাঁর বাড়ি থেকেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। দিল্লির এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, আগামী দিনে যদি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি ফের যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বা তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার মতো তাঁকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা সতর্কতামূলক গ্রেফতার করা হয়নি।

এদিকে, ছাড়া পেয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন ধ্রুব রাঠী। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, 'আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল। আটক বা গ্রেফতার আমি বলব না। আটক করতে হলে পুলিশ উর্দি পরে আসত। গ্রেফতার করার হলে উপযুক্ত এফআইআর কপি নিয়ে আসত। কিন্তু আমাকে সাধারণ পোশাকের ২০-২২ জন গুন্ডা এসে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ২০-২২ ঘণ্টা ফোন রাখতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ পোশাকে যেভাবে আমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হল সেটা কিডন্যাপ করা।' ভিডিওতে ধ্রুব রাঠী জানান, শনিবার সকালে তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। সকাল সাতটা নাগাদ বাড়ির বাইরে লোকজন ঘোরাফেরা করতে দেখে তাঁর মা দরজা খোলেন। সেই সময় বাইরে কোনও উর্দিধারী পুলিশ ছিল না। সাধারণ পোশাক পরা কিছু লোক তাঁর মাকে ধাক্কা মেরে সরাসরি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েন। ধ্রুবর কথায়, 'আমি ঘুম ভেঙে উঠে কিছু বলা বা করার সুযোগ পাইনি। জুতো পরার সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে।'

এমনকী সাদা পোশাকের ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বাবা ও মায়ের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের নাগরিকত্ব নিয়েও যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করেছেন ইউটিউবার। শনিবার দিনভর একাধিক সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছিল ধ্রুব রাঠী ভারতীয় নাগরিক নন, জার্মান। তাই তিনি ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে এসে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। সেটা করলে ভিসার শর্ত লংঘন করা হবে। তবে এদিন ধ্রুব নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট ভিডিওতে দেখিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভারতেরই বাসিন্দা। এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আদালত মুক্তি দিয়েছে। রবিবার সকালে 'প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট' করে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় আনা হয় দীপকে, সৌরভ, আশুতোষদের। ৩ প্রধানকে হাজির করা হয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে। শনিবার আটকের পর অবশেষে ছাড়া পেলেন সিজেপি-র ৩ সদস্য।

উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ধ্রুব রাঠী ও সিজেপি নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে এভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ আটক রাখার পর গভীর রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ধ্রুব রাঠী।