Supreme Court on CJP Protest: স্তব্ধ করা যাবে না জনজীবন! দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভের আগে কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court on CJP Protest: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
Supreme Court on CJP Protest: ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)-র বিক্ষোভের জেরে দিল্লির জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে না। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দিল্লিগামী একাধিক ট্রেন বাতিল, ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য দিল্লির গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট সিজেপি-র বিক্ষোভের জেরে জারি করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের হয়রানি যাতে যথাসম্ভব কমানো যায়, সেই পরামর্শও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
নিরাপত্তার অজুহাতেই শনিবার ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার কথা জানায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (ডিএমআরসিএল)। এই নির্দেশিকা নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'গুরগাঁও, পূর্ব এবং দক্ষিণ দিল্লির মতো জায়গাগুলি থেকে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন জীবিকার কারণেই যাত্রা করেন, তাঁদের কথা ভেবেই আমরা উদ্বিগ্ন।' তিনি আরও বলেন, 'প্রত্যেকের তো ব্যক্তিগত গাড়ি থাকে না।' সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের যাতে অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রিত ভাবে হলেও গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। দিল্লিগামী ট্রেন এবং মেট্রো স্টেশনগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি মামলার রায় দিতে গিয়েই এ কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, সিজেপি-র বিক্ষোভ যদি বেআইনি হয় তাহলে প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই পারে। কিন্তু তা করতে গিয়ে যেন কোনও ভাবেই রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ না হয়ে যায়।
দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পাশাপাশি সিজেপি-র বিক্ষোভের কারণে দু দিন দিল্লিতে মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। নিউ দিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারা জারি করার পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে দিল্লি পুলিশ।
'দুর্গে' পরিণত দিল্লি
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) পদত্যাগ এবং 'স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন' বা এসআইআর (SIR) বাতিল করার দাবিতে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর যৌথ মহা-বিক্ষোভ অভিযানকে ঘিরে রাজধানী দিল্লি এখন কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল্লি পুলিশ এই প্রতিবাদের কোনও অনুমতি দেয়নি। উল্টে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চলাচলে কড়াকড়ি, অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি এবং নজিরবিহীন সংখ্যার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে মোতায়েন করা হয়েছে ২৬,০০০-এরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) কর্মী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), এসএসবি (SSB), আইটিবিপি (ITBP) এবং সিআইএসএফ (CISF)-এর আরও অন্তত ১১০টি অতিরিক্ত কোম্পানি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তীসগড় থেকে আসা এই নতুন বাহিনী দিল্লিতে ইতিমধ্যেই কর্মরত ১১১টি কোম্পানির সঙ্গে যোগ দিয়েছে। মোট ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি পুরো দিল্লির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সামলাবে।
দিল্লি পুলিশের খোলা চিঠি
নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যেমন তাঁদের প্রধান দায়িত্ব, তেমনই পুলিশকর্মীরাও উর্দির বাইরে পরিবারের স্নেহভাজন সাধারণ মানুষ—এই বার্তা দিয়ে দিল্লিবাসীর উদ্দেশে এক বেনজির ও আবেগঘন খোলা চিঠি প্রকাশ করল দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা ওই খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, 'প্রিয় নাগরিকবৃন্দ, নিজেদের আওয়াজ তোলা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আর আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমাদের কর্তব্য। তবে মনে রাখবেন, উর্দির আড়ালেও লুকিয়ে রয়েছে রক্ত-মাংসের এক সাধারণ মানুষ, যাঁর নিজের পরিবার এবং প্রিয়জন রয়েছে। আমাদের মাঝে একমাত্র পার্থক্য কেবল এই খাকি উর্দির, মানবতার নয়।' সাম্প্রতিক দিল্লিতে আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একাধিক সংঘাত ও বাদানুবাদের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই আবহেই নিজেদের দায়িত্ব ও মানবিক সত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা ও সহানুভূতির আবেদন জানাল পুলিশ প্রশাসন।
E-Paper

