INDIA Bloc: ইন্ডিয়া ব্লকের রণকৌশল কী? রাহুল গান্ধীর চা-চক্রে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করলেন বিরোধীরা

INDIA bloc: এই মুহূর্তে দেশে উৎসবের মরশুম চলছে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে রোজ প্রচুর লোক জড়ো করে বিক্ষোভ দেখালে ব্যবসার যেমন ক্ষতি তেমনই সমস্যায় পড়তে হয় আমজনতাকেও। এই পরিস্থিতিতে নবরাত্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর বড় জমায়েত নাও করতে পারে ইন্ডিয়া জোট।

Published on: Oct 14, 2026, 13:53:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

INDIA bloc: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিতর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে এবার এক ছাতার তলায় সমস্ত বিরোধী শিবির ও গণসংগঠনগুলোকে নিয়ে এলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মঙ্গলবার দিল্লির ৫ সুনেহরি বাগ রোড অবস্থিত নিজ বাসভবনে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতা, সাংসদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও একাধিক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের জন্য এক বিশেষ ‘হাই-টি’ চা-চক্রের আয়োজন করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর চা-চক্রে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করলেন বিরোধীরা (AICC)
রাহুল গান্ধীর চা-চক্রে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করলেন বিরোধীরা (AICC)

একক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ যেন ভেঙে না পড়ে, সেই কারণেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গণ্ডি পেরিয়ে সিভিল সোসাইটি ও ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার এই কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর বাসভবনে হাই টি-তে ইন্ডিয়া জোটের প্রায় সব দলের নেতাই উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছিলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সনিয়া গান্ধী, কেসি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশরা। সিপিএমের এম এ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, সিপিআই(এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক, আইসা নেত্রী নেহা বোরা-সহ একাধিক শীর্ষ বিরোধী নেতা। রাহুল গান্ধীর চা চক্রে প্রায় ৪০টি গোল টেবিল সাজানো হয়। বিভিন্ন রাজ্যের সাংসদদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে-মিশিয়ে বসানো হয়েছিল, যাতে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হয়। যেমন— কেরলের কংগ্রেস সাংসদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদ আলোচনা করেছেন।

এই মুহূর্তে দেশে উৎসবের মরশুম চলছে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে রোজ প্রচুর লোক জড়ো করে বিক্ষোভ দেখালে ব্যবসার যেমন ক্ষতি তেমনই সমস্যায় পড়তে হয় আমজনতাকেও। এই পরিস্থিতিতে নবরাত্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর বড় জমায়েত নাও করতে পারে ইন্ডিয়া জোট। এদিনের বৈঠকে সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী সাংসদদের মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। যদিও সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াই চলতে থাকবে। আগামী দিনে বিক্ষোভের ধরনেও যে অভিনবত্ব আসবে সেটার ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিন সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা দেখিয়েছেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলনেতা বলেছেন, 'এই লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও ভূমিকা রয়েছে। আমরা শীর্ষ আদালতকে সম্মান করি।'

সূত্রের খবর, কংগ্রেস-সহ বিরোধী জোটের অন্যান্য দলগুলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বিতর্ক এড়াতে আপাতত 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-এর মতো সংগঠনের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। অন্যদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (AAP) যেভাবে ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে, তা নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আপ-এর এই মনোভাবে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব বেশ অসন্তুষ্ট বলেই সূত্রের দাবি। উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বিরোধী জোটের মধ্যে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। সমাজবাদী পার্টি (SP) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আজাদ সমাজ পার্টির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদকে বিরোধী জোট থেকে দূরে রাখা হোক। রাহুল গান্ধীর বৈঠকে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন তা-ই ন। ডেকে নেওয়া হয়েছিল দুই বাম ছাত্র সংগঠন আইসা এবং এসএফআইয়ের দুই নেত্রী নেহা বোরা এবং ঐশী ঘোষকেও। সাংবাদিক বৈঠকে দেখা যায়, পিছনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা নেহাকে বারংবার সামনের সারিতে নিয়ে আসছেন রাহুল গান্ধী। সোমবারের মিছিলে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং নেহার কাঁধে হাত রেখে রাহুল গান্ধীর হেঁটে যাওয়ার স্থিরচিত্র তেকে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল। মঙ্গলবারও তার অন্যথা হল না। দিল্লিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দুই বাম ছাত্র সংগঠনেরই শক্তি রয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের জমায়েতেরও ক্ষমতা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সে কারণেই রাহুল নেহা এবং ঐশীকেও চা-চক্রে ডেকে নিয়েছিলেন।

চা চক্র শেষে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা সমস্বরে দাবি করলেন, আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ চালাবেন তাঁরা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, প্রথম বার দিল্লিতে এত রাজনৈতিক দল, সংগঠনের সদস্য সদস্য জড়ো হয়েছেন। সবটাই দেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে। রাহুল গান্ধী জানান, ‘আমরা সকলে একজোট। আর কোনও সমান্তরাল প্রতিবাদ কর্মসূচি নেই। কর্মসূচি একটাই। আমাদের লক্ষ্য হল, দেশে গণতন্ত্র আবার প্রতিষ্ঠা করা।’ অর্থাৎ বিরোধীরা যে আলাদা করে কোনও কর্মসূচি করবেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।