‘ডিপ স্টেট’ আসলে কী? সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চায় ক্ষমতার অদৃশ্য জগত! কীভাবে কাজ করে এটি, নেপথ্যে কারা? অনেকেই জানেন না সে কথা

ভারতেও সাম্প্রতিক বেশ কিছু রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সামাজিক অচলাবস্থার পিছনে ডিপ স্টেটের ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ মহল দাবি করছে। কিন্তু কী এই ডিপ স্টেট, কারা থাকতে পারে এর পিছনে-- জেনে নিন। 

Published on: Sep 26, 2026, 08:51:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং রাজনৈতিক চর্চায় ইদানীং একটি শব্দ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে—‘ডিপ স্টেট’ (Deep State)। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সরকার পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পিছনে প্রায়ই উঠে আসে এই শব্দবন্ধটি। এমনকি ভারতেও সাম্প্রতিক বেশ কিছু রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সামাজিক অচলাবস্থার পিছনে ডিপ স্টেটের ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ মহল দাবি করছেন। কিন্তু কী এই ডিপ স্টেট? কেন এমন নাম দেওয়া হয়েছে? কীভাবে ক্ষমতার এই অদৃশ্য নেটওয়ার্ক কাজ করে এবং কারাই বা থাকে এর নেপথ্যে?

‘ডিপ স্টেট’ আসলে কী? সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চায় ক্ষমতার অদৃশ্য জগত! এর পিছনে কারা
‘ডিপ স্টেট’ আসলে কী? সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চায় ক্ষমতার অদৃশ্য জগত! এর পিছনে কারা

১. 'ডিপ স্টেট' (Deep State) কী এবং কেন এমন নাম?

‘ডিপ স্টেট’ বা ‘গভীর রাষ্ট্র’ বলতে কোনো দেশের নির্বাচিত ও দৃশ্যমান সরকারের অভ্যন্তরে বা আড়ালে সক্রিয় এমন এক অদৃশ্য শক্তি বা সমান্তরাল পাওয়ার নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যারা জনগণের তোয়াক্কা না করে নিজেদের স্বার্থে দেশের বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণ নিয়ন্ত্রণ করে।

  • শব্দের উৎস: ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটির উৎপত্তি মূলত তুরস্ক থেকে (তুর্কি শব্দ Derin Devlet)। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে তুরস্কে সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা, বিচার বিভাগ ও অপরাধ চক্রের একটি গোপন জোট ছিল, যা নির্বাচিত সরকারকে পেছনে ফেলে দেশ পরিচালনা করত। সেখান থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গভীরে শিকড় গেড়ে থাকা এই অদৃশ্য শক্তি বোঝাতে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

২. কীভাবে কাজ করে এই অদৃশ্য নেটওয়ার্ক?

ডিপ স্টেট কোনো একটি নির্দিষ্ট দপ্তর বা ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত হয় না। এটি মূলত বিভিন্ন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এক জটিল ও সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। এর কর্মপদ্ধতি সাধারণত তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে:

  • জনমত গঠন ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বব্যাপী বড় বড় মিডিয়া হাউস, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং নামজাদা থিঙ্ক-ট্যাঙ্ককে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ বা প্রচার তৈরি করা হয়। কোনো দেশের সরকারকে অস্থিতিশীল করতে হলে প্রথমে মিডিয়ার মাধ্যমে সেই সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হয়।
  • আর্থিক চাপ ও এনজিও নেটওয়ার্ক: আন্তর্জাতিক স্তরের বিলিয়নেয়ার ফান্ডার, প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম এবং তথাকথিত মানবাধিকার এনজিওর (NGO) মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এই অর্থ কোনো দেশের অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ, বিক্ষোভ বা আন্দোলনকে মদত দিতে ব্যবহৃত হয়।
  • গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কূটকৌশল: রাষ্ট্রের স্থায়ী আমলাতন্ত্র, মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স (সামরিক অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান) এবং গোয়েন্দা সংস্থার ভেতরের কিছু প্রভাবশালী লোক দৃশ্যমান নির্বাচিত সরকারের নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে।

৩. কারা থাকতে পারে ডিপ স্টেটের নেপথ্যে?

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ডিপ স্টেটের প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করে কয়েকটি প্রভাবশালী শ্রেণী:

  • আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়ার ও কর্পোরেট জায়ান্ট: বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা অস্ত্র নির্মাতা এবং শীর্ষ টেক-জায়ান্ট কোম্পানি।
  • স্থায়ী আমলাতন্ত্র ও গোয়েন্দা সংস্থা: আমেরিকার 'সিআইএ' (CIA), বিশ্ব ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) মতো সংস্থার ভেতরের নির্দিষ্ট নীতি-নির্ধারক গোষ্ঠী।
  • গ্লোবাল থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ও ফান্ডিং সংস্থা: তথাকথিত 'উদারপন্থী' বা 'সমাজসেবী' ব্যানারে পরিচালিত কিছু বহুজাতিক ফাউন্ডেশন, যারা বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে অর্থ ঢেলে পরিবর্তন আনতে চায়।

৪. ভারত এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ডিপ স্টেটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

ভারতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে চলা নানা আন্দোলন, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং নির্দিষ্ট কিছু মিডিয়া ক্যাম্পেইনের পিছনে বৈদেশিক ডিপ স্টেটের হাত রয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন। ভারতের উন্নতি আটকাতে এমন ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’ বা হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার (Hybrid Warfare) চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকেই।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডিপ স্টেট হলো ক্ষমতার এক কঠিন ও সমান্তরাল ব্যবস্থা, যা দৃশ্যমান গণতন্ত্রের আড়ালে থেকে কাজ করে। আধুনিক যুগে শুধু ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই একমাত্র শক্তি নয়; আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে দৃশ্যমান রাজনীতির আড়ালের এই অদৃশ্য শক্তির ওপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More