PM Modi Meeting: ১২ বছর পূর্তি থেকে পশ্চিম এশিয়া সংকট! ম্যারাথন বৈঠকে মন্ত্রীদের ‘ভবিষ্যতে’র বার্তা PM মোদীর

PM Modi Meeting: প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে মন্ত্রীদের পরামর্শ দেন যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশাসনিক কাজে যেন দেরি না হয়। বৈঠকে আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতের ফাঁস নিয়েও কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন তিনি।

Published on: May 22, 2026, 12:45:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

PM Modi Meeting: নয়া দিল্লির অলিন্দে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক অলিন্দে এখন তুমুল চর্চা। ১২ বছর আগে জুন মাসে দেশের মসনদে প্রথমবার বসেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আগামী মাসেই পূর্ণ হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী ৩.০ সরকারের দ্বিতীয় বছর এবং কেন্দ্রে টানা ১২ বছরের ঐতিহাসিক শাসনকাল। এই যুগান্তকারী মাইলফলকের ঠিক আগেই বিদেশ সফর সেরে ফিরেই অ্যাকশন মোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার ম্যারাথন বৈঠকে বসেন তিনি। দীর্ঘ ১১ মাস পর বসা এই পূর্ণাঙ্গ বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রীদের স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন- 'অতীতে কী হয়েছে ভুলে যান, এবার সম্পূর্ণভাবে ভবিষ্যতের দিকে ফোকাস করুন।' ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ যেন স্রেফ স্লোগান না হয়ে মাটিতে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন এনডিএ সরকারের পাখির চোখ।

ম্যারাথন বৈঠকে মন্ত্রীদের ‘ভবিষ্যতে’র বার্তা PM মোদীর (X/@narendramodi)
ম্যারাথন বৈঠকে মন্ত্রীদের ‘ভবিষ্যতে’র বার্তা PM মোদীর (X/@narendramodi)

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও পড়েছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে জ্বালানির বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দিতে পারে দেশে। টাকার পতনও অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে আগে দেশের জ্বালানির ব্যবহারে লাগাম টানতে দেশবাসীকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার কেন্দ্রের মন্ত্রীদের নতুন করে আর্থিক সংস্কারে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কারণ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ 'হরমুজ প্রণালী'কে ঘিরে বিঘ্ন বা অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে ৷

১. ফাইল আটকে রাখা চলবে না

প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে মন্ত্রীদের পরামর্শ দেন যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশাসনিক কাজে যেন দেরি না হয়। বৈঠকে আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতের ফাঁস নিয়েও কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও সংস্কার বা সরকারি প্রকল্পের কাজ যেন শুধু ফাইলের মধ্যেই বন্দি না থাকে। ফাইল যেন আমলাদের টেবিলে অপ্রয়োজনে আটকে না থাকে, বরং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফাইল ছাড়তে হবে। এর ফলে সরকারি পরিষেবা আরও গতিশীল ও সরল হবে এবং দেশের নাগরিকেরা তার সরাসরি সুফল পাবেন। মন্ত্রীদের হাতে যে সময়টুকু রয়েছে, তার প্রতিটি সেকেন্ড যাতে ১০০ শতাংশ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা হয়, সেই বিষয়েও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মন্ত্রীদের বিতর্ক এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেন তিনি।

২. হরমুজ প্রণালীর সংকটের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি। তার প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতেও। আর বৈঠকে এই বিষয়টা নিয়েও কথা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজের মন্ত্রীদের আবেদন করেন যাতে সাধারণ মানুষের উপর এই যুদ্ধের প্রভাব কম পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে। বিশেষত, শক্তি, কৃষি, সার, বিমান, জাহাজ এবং লজিস্টিকের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন তিনি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার প্রেক্ষিতে আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা ঠিক করতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, জ্বালানি সংকটের সময় বায়ো-গ্যাস উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন তাঁরা আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে, পরিবেশ-বান্ধব বিকল্প ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বা সহনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা উচিত ৷ জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি জনগণকে গণপরিবহণ ব্যবহার করতেও আহ্বান জানিয়েছিলেন ৷ পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রেল ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যেখানে সম্ভব সেখানে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর জন্যও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন ৷ এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই সারা দেশজুড়ে জ্বালানির দাম সংশোধন করে তা বৃদ্ধি করা হয়েছে ৷

'বিকশিত ভারত ২০৪৭'

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এদিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে সরকারের মূল লক্ষ্য হতে হবে সংস্কারের গতি বাড়ানো, জনকল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও সরল করে তোলা। মন্ত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, প্রতিটি মন্ত্রককে 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, 'আমাদের সরকার ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। এখন ২০২৬ সাল। আমাদের দেখতে হবে যে ভবিষ্যতে আমরা কী করতে পারি। এখন রিওয়াইন্ড নয়, সামনে দেখার সময়।' তিনি আরও বলেন, 'বিকশিত ভারত ২০৪৭ শুধুমাত্র স্লোগান নয়, বরং এটি জাতীয় প্রতিশ্রুতি।' বৈঠকে নীতি আয়োগের সদস্য রাজীব গৌবার নেতৃত্বাধীন হাই লেভেল কমিটির সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষি, কমার্স, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন, পরিবেশ-সহ মোট নয়টি মন্ত্রকের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কী কী সংস্কারের কাজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রেজেন্টেশন তুলে ধরা হয়। অন্যান্য মন্ত্রকের কাজের সম্পর্কে প্রেজেন্টেশন দেন ক্যাবিনেট সচিব। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দেশের সফরের তাৎপর্য নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন।

বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে ‘সাপ্লাই চেইন’ বা পণ্য সরবরাহ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরোয়া অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে সংস্কারের চাকায় গতি বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী।