PM Modi: 'অপারেশন সিঁদুরের সময়...,' মধপ্রাচ্যের সংঘাতে শান্তির বার্তা দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার PM মোদীর

PM Modi in Australia: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝেই ফের ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গিয়েছে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে সিডনি থেকে শান্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Published on: Jul 9, 2026, 18:25:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

PM Modi in Australia: বুধবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পা রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। আর বৃহস্পতিবারই ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একাধিক বিষয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। সেই সঙ্গে মেলবোর্নে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি 'অপারেশন সিন্দুর'-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলোতে হওয়া বিস্ফোরণের আওয়াজ যখন 'বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত' হয়েছিল, তখন গোটা বিশ্ব ভারতের সংকল্প প্রত্যক্ষ করেছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার PM মোদীর (Narendra Modi Photo Gallery)
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার PM মোদীর (Narendra Modi Photo Gallery)

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের এই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত কঠোর জবাব দেবে। মার্ভেল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'বিশ্ব আজ ভারতের প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলোর সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা দেখছে।' তিনি বলেন, ওই অপারেশনে জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের হানার সময় ঘটা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'অপারেশন সিঁদুরের সময় সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানায় আঘাত হানা সেই বিস্ফোরণগুলি নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন। যার প্রতিধ্বনি সারা বিশ্বজুড়ে শোনা গিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে যখন এমন এক আঘাত হানা হয়েছিল, তখন কী আপনাদের গর্ববোধ হয়নি?' তাঁর এই মন্তব্যের পরই উপস্থিত জনতা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানায়।

এরপরই তিনি বলেন, ভারত এখানেই থেমে থাকতে চায় না, বরং জিপ থেকে জাহাজ, প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে দেশে। অর্থাৎ সামরিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে আনার পরপরই তিনি সেটিকে দেশীয় উৎপাদন ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার বার্তার সঙ্গে জুড়ে দেন, যা তাঁর ভাষণের একটি তাৎপর্যপূর্ণ কৌশল বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, গত ১২ বছরে এটা তাঁর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। আর ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক যে আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার পেছনে প্রবাসী ভারতীয়দের একটা বড় ভূমিকা আছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, প্রবাসী ভারতীয়রা একদিকে যেমন তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে দিয়ে ভারতের সঙ্গে জুড়ে থাকেন, তেমনই অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়নেও বড় ভূমিকা পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি যখন ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলাম, তখন ২৮ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন। আপনাদের হয়তো মনে আছে, আমি তখন বলেছিলাম যে আপনাদের আর ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। গত ১২ বছরে এটা আমার তৃতীয় সফর-একদম হ্যাটট্রিক সফর। এটা থেকেই বোঝা যায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক কতটা মজবুত হয়েছে। আর জানেন এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা কার? মোদীর নয়, আপনাদের সকলের।' ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজারে পরিণত হয়েছে এবং দ্রুত দেশীয় ৬জি প্রযুক্তি তৈরি করছে। তাঁর কথায়, 'ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজারে পরিণত হয়েছে। আজ ভারত অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মেইড-ইন-ইন্ডিয়া ৬জি প্রযুক্তির ওপর কাজ করছে।'

ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝেই ফের ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গিয়েছে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে সিডনি থেকে শান্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'বিশ্বের সমস্ত সমস্যা একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।' উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই বুধবার গভীর রাতে ইরানে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একটি ইরানি বিমানঘাঁটিও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তেহরান, বন্দর আব্বাস-সহ ইরানের একাধিক শহর। তবে এই হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে ইরান। সেই কারণেই মার্কিন সেনা তেহরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।’ অভিযানের পর ট্রাম্প একাধিক ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের উপর ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত হেনেছে ওয়াশিংটন।