PM Modi-Trump press meet:'স্বাভাবিক...,' PM মোদী-ট্রাম্প সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিক বৈঠক চায়নি ভারত? অবস্থান স্পষ্ট করল সূত্র

PM Modi-Trump press meet: ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের নিহত হওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং পারস্পরিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়।

Published on: Aug 24, 2026, 14:18:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

PM Modi-Trump press meet: ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের দাবি, ওই প্রেস মিটে (PM Modi-Trump press meet) কোনও প্রশ্ন না করার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অনুরোধ শেষ পর্যন্ত বেমালুম ভুলে যান এবং সাংবাদিকদের ডেকে বসেন। ফলস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পাশে বসিয়ে দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে।

PM মোদী-ট্রাম্প সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিক বৈঠক চায়নি ভারত? অবস্থান স্পষ্ট করল সূত্র (file)
PM মোদী-ট্রাম্প সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিক বৈঠক চায়নি ভারত? অবস্থান স্পষ্ট করল সূত্র (file)

তবে কোনও ভিভিআইপি (VVIP) সফরের সময় সময়সূচি ও সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও বিষয়গুলি আগাম জানানো একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে এমনটাই জানিয়েছেন এই সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি অবগত শীর্ষ সরকারি সূত্রগুলি।

ঘটনার সূত্রপাত

গত ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ জি-৭ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকের নেপথ্য কাহিনীর স্মৃতিচারণা করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোর জানান, বৈঠকের ঠিক আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে ভারতীয় পক্ষ ঠিক কী কী বিষয় উত্থাপন করতে পারে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পর বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষ অনুরোধের কথা ট্রাম্পকে জানান গোর। সেই আলোচনাতেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ডাকা হলেও কোনও পূর্ণাঙ্গ প্রেস কনফারেন্স বা প্রশ্নোত্তরের আয়োজন যেন না করা হয়। গোর-র কথায়, 'আমরা তখন মঞ্চের পিছনে ছিলাম। একসময় সেখানে শুধু প্রেসিডেন্ট এবং আমি ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভারতীয়রা কী কী বিষয় তুলে ধরতে চলেছে। আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।' তিনি আরও বলেন, 'প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছিলেন, ভারতের কোনও দাবি আছে কিনা। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ ছিল। সেটি ছিল, মিডিয়াকে ঢুকতে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক বৈঠক যেন না হয়।'

এরপর গোর দাবি করেন, ভারতের এই কথা তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছিলাম, ভারত কোনও প্রশ্ন চায় না। তিনি বলেছিলেন, ঠিক আছে, কোনও সমস্যা নেই।'এরপর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫০টিরও বেশি ক্যামেরার সামনে দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বসে তাঁদের প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশ করতে শুরু করেন। কিন্তু প্রারম্ভিক বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্রই ট্রাম্প হঠাৎ ক্যামেরার দিকে ফিরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, 'কারও কোনও প্রশ্ন আছে কি?' আর এই একটি মাত্র বাক্যই গোটা পরিস্থিতি বদলে দেয়। এরপরেই শুরু হয় প্রায় ৪৫ মিনিটের এক দীর্ঘ প্রেস মিট, যেখানে দুই নেতার সামনে সমস্ত বিষয় উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদী-ট্রাম্পের ওই বৈঠকটি হয়েছিল হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার মধ্যেই। এর কয়েকদিন আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের নিহত হওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং পারস্পরিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়। তৎকালীন বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই অপ্রত্যাশিত প্রশ্নোত্তর পর্ব কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। যদিও গোরের এই দাবি নিয়ে মুখ খোলেনি ভারত সরকার। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।