Delhi Gymkhana Club: জোরপূর্বক দখল নয়! দিল্লি জিমখানা ক্লাব মামলায় নয়া মোড়, আদালতে কী জানাল কেন্দ্র?
Delhi Gymkhana Club: গত ২২ মে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক ক্লাবকে নোটিস পাঠায়। সেখানে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ‘চিরস্থায়ী ইজারা’ বাতিল করে জমি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
Delhi Gymkhana Club: মঙ্গলবার লুটিয়েন্স দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাব উচ্ছেদের মামলার শুনানি ছিল। শুনানি চলাকালীন দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, তারা দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে ‘স্বেচ্ছায়’ জায়গাটি খালি করার সুযোগ দিয়েছে। আর তারা যদি স্বেচ্ছায় জায়গাটি খালি না-ও করে, তাও পুলিশ পাঠিয়ে জোর করে ক্লাবের জমি জোরপূর্বক দখল করা হবে।

এদিন শুনানিতে কেন্দ্রের সলিটর জেনারেল তুষার মেহতা দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ করবে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে আদালত জানতে চায়, আগামী ৫ জুন কোনও পদক্ষেপ করা হবে কিনা। এর জবাবে তুষার মেহতা জানান, ৫ জুন কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। জমি খালি করার জন্য ক্লাবকে নতুন করে নোটিস দেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তরফে ক্লাবকে অন্যত্র জায়গা দেওয়ার কথা ভাবা হতে পারে। জিমখানা ক্লাবকে জমি খালি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল। ফলে পুলিশ দিয়ে জোর জবরদস্তি করার কোনও প্রশ্ন উঠছে না।
শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে আরও বলা হয়েছে, লিজ চুক্তির শর্ত মেনে দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এবং সরকারি কাজের জন্য এই জমির প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে, ক্লাবের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে সওয়াল করেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্র উচ্ছেদের নোটিস পাঠিয়েছে ঠিকই। কিন্তু নোটিসে কারণ দর্শানো হয়নি। বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২২ মে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্থ ভূমি ও উন্নয়ন দফতর উচ্ছেদের নোটিস পাঠায় ক্লাবটিকে। ৫ জুনের মধ্যে ক্লাবের ২৭.৩ একর জায়গা সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল নোটিসে। দিল্লি জিমখানা ক্লাব শুধুমাত্র একটি অভিজাত ক্লাব নয়, ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ শাসক পঞ্চম জর্জ কলকাতা থেকে রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরের ঘোষণা করেন। তার পরেই নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ১৯১৩ সালে তৈরি হয় ‘ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব।’
ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাস ও অনিশ্চয়তায় কর্মীরা
গত ২২ মে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক ক্লাবকে নোটিস পাঠায়। সেখানে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ‘চিরস্থায়ী ইজারা’ বাতিল করে জমি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, জমিটি প্রথমে ক্লাবই কিনেছিল। পরে সরকার মালিকানা হস্তান্তরের বদলে ইজারা দেয়। নিয়মিত ইজারার অর্থও মেটানো হয়েছে। বহু বছর ধরে এটি দিল্লির অন্যতম একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এখানে উচ্চপদস্থ আমলা, কূটনীতিক, সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদরা যাতায়াত করেন। ২০২২ সালেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরকার এই ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এদিকে সরকারের এই হঠাৎ নির্দেশে ক্লাবের প্রায় ৬০০ জন কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মীরা জানিয়েছেন, ৫ জুনের পর তাঁদের চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়ে ম্যানেজমেন্ট এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
E-Paper

