অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়নি! CJP বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দাবি দিল্লি পুলিশের, বিহারে অপসারণ SPর
Supreme Court CJP protest: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও অতি-বলপ্রয়োগের দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, 'হাজার হাজার মানুষের এত বড় আন্দোলনে যদি সত্যি পেলেট গান চালানো হত, তবে এত কমসংখ্যক মানুষ আঘাত পেলেন কীভাবে? পেলেট গানে তো একসঙ্গে বহু ছররা নির্গত হয়।'
Supreme Court CJP protest: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে 'অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ' বা আইনবিরুদ্ধ কোনও কাজ করা হয়নি বলে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সাফ জানাল দিল্লি পুলিশ। সম্প্রতি শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া এক হলফনামায় পুলিশের দাবি, গত ২০ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভে বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ পরিমিত। পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, শুধুমাত্র তখনই কাঁদানে গ্যাস ও সীমিত লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এছাড়া, আন্দোলনকারীদের ওপর ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে গণনজরদারি চালানোর অভিযোগও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রথম দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু পরে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তার একাধিক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সংসদ ভবনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। এর পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পুলিশকে বলপ্রয়োগ করতে হয়। দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন। এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে প্রায় ৫ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ২৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে, প্রায় ২০০ জন প্রতিবাদী ও সাধারণ মানুষের আইনসম্মতভাবে চিকিৎসাও করানো হয়েছে।
পুলিশের আরও দাবি, সিজেপি (CJP)-র এই কর্মসূচির ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একাধিক দাগী অপরাধী ও সমাজবিরোধীরা প্রবেশ করেছিল। শনাক্ত হওয়া প্রায় ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ বা ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য, আংশিক ভিডিও ক্লিপ কখনও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না। বিক্ষোভস্থলে পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও পুলিশের দাবি, ওই লাঠি কোনও পুলিশকর্মীর নয়, বরং তা ছিল কোনও এক বিক্ষোভকারীর হাতে থাকা জাতীয় পতাকার লাঠি। এছাড়া, ভিড়ের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে সাধারণ পোশাকে স্পেশাল সেল ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের ‘স্পটার’ মোতায়েন করা হয়েছিল, যা বড় সমাবেশে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহার করেছে বলে একাধিক রিপোর্ট সামনে আসে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ একযোগে খারিজ করেছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও অতি-বলপ্রয়োগের দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, 'হাজার হাজার মানুষের এত বড় আন্দোলনে যদি সত্যি পেলেট গান চালানো হত, তবে এত কমসংখ্যক মানুষ আঘাত পেলেন কীভাবে? পেলেট গানে তো একসঙ্গে বহু ছররা নির্গত হয়।'
পদ থেকে সরানো হল এসপি-কে
এদিকে, বিহারের সিওয়ানে (Siwan) ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে একে-৪৭ (AK-47) ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর ওই জেলার পুলিশ সুপার (SP) পুরন কুমার ঝাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করেছে রাজ্য সরকার। যে কনস্টেবল সেদিন একে-৪৭ চালিয়েছিলেন ইতিমধ্যেই তাঁকে বরখাস্ত করা হলেও, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের এখনও নতুন কোনও পোস্টিং দেওয়া হয়নি। বর্তমানে এসপি পুরন কুমার ঝাকে নতুন পোস্টিংয়ের জন্য ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা পেশ করেছে বিহার সরকার। সেই হলফনামায় জানানো হয়েছে, গত ২৫ জুলাই সিওয়ানের জিপি চকের কাছে ছাত্র বিক্ষোভের সময় কনস্টেবল অভিষেক কুমার জনরোষে ঘেরাও হয়ে পড়েছিলেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ওই কনস্টেবল ভিড়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কোণঠাসা ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার কারণেই আত্মরক্ষার্থে আকাশে চার রাউন্ড গুলি চালান। রাজ্য সরকারের দাবি, ওই চার রাউন্ড গুলির আঘাতে কোনো বিক্ষোভকারী আহত হননি। পুলিশের গুলিতে ওই দিন তিন বিক্ষোভকারী সামান্য জখম হওয়ার কথা স্বীকার করেছে রাজ্য সরকার। তবে সেই আঘাতের সঙ্গে কনস্টেবল অভিষেকের AK-47 দিয়ে আকাশপথে গুলি চালানোর কোনো যোগ নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, যে তিনজন আহত হয়েছেন, তারা ওই কনস্টেবলের গুলি চালানোর স্থানে উপস্থিতই ছিলেন না। এর পাশাপাশি, হাতি চকের কাছে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (ASI) নীলেশ কুমার সিং তাঁর ৯ এমএম পিস্তল থেকে দুই রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সামগ্রিক ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সংযম দেখানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলেই শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে রাজ্য।
এই ঘটনার পরেই বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। ছাত্র বিক্ষোভে মোতায়েন থাকা একজন কনস্টেবল কীভাবে একে-৪৭-এর মতো আধুনিক মারণাস্ত্র পেলেন, কোন ইউনিট বা আর্মারি থেকে তা ইস্যু করা হয়েছিল এবং কে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন, সেই নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই অস্ত্র বরাদ্দের পুরো কমান্ড চেইনের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত বলেও দাবি জানিয়েছেন তেজস্বী যাদব।
E-Paper

